রানির সেই হাসি ভোলার নয়: ক্যামিলা

“সেই হাসিটা আমার সবসময় মনে থাকবে। অবিস্মরণীয় সেই হাসি। চিরকাল তিনি আমাদের জীবনের অংশ।”

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Sept 2022, 06:19 AM
Updated : 18 Sept 2022, 06:19 AM

পুরুষ শাসিত বিশ্বে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ নিজের অবদান নিজেই খোদাই করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তার পুত্রবধূ, কুইন কনসর্ট ক্যামিলা।

রোববার রানির স্মরণে যুক্তরাজ্য জুড়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের আগে বিবিসির এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তার চোখ ও হাসির প্রতি মুগ্ধতার কথা বিশেষভাবে বলেন নতুন রাজা চার্লসের স্ত্রী ক্যামিলা।

তার ভাষায়, “সেই বিস্ময়কর নীল চোখ… যখন তিনি হাসেন তার পুরো মুখমণ্ডল আলোকিত হয়ে ওঠে।

“সেই হাসিটা আমার সবসময় মনে থাকবে। অবিস্মরণীয় সেই হাসি। তিনি চিরকাল আমাদের জীবনের অংশ।”

১৯৫২ সালে দ্বিতীয় এলিজাবেথ যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন ক্যামিলার বয়স ছিল চার।

বিবিসির প্রামাণ্যচিত্রে ক্যামিলা বলেছেন, “আমার বয়স এখন ৭৫ এবং আমি রানি ছাড়া আর কাউকে ওই জায়গায় মনে করতে পারছি না।”

পুরুষশাসিত বিশ্বে ‘কঠিন অবস্থানে’ থেকে ‘একাকী নারী’ হিসাবে বহু বছর ধরে তার শাশুড়ি যে ভূমিকা পালন করে গেছেন, সে কথাও তুলে ধরেছেন ক্যামিলা।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “নিঃসঙ্গ নারী হিসাবে এটা অবশ্যই খুব কঠিন ব্যাপার ছিল। সে সময় কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট ছিল না। আমি মনে করি, তিনিই একমাত্র নারী, যিনি নিজের অবদান নিজেই লিপিবদ্ধ করে গেছেন।”

ব্রিটিশ সিংহাসনে ৭০ বছর কাটিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

এ বছরের শুরুতে সিংহাসন আরোহণের ৭০ বছর পূর্তি বা প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপনের আগে রানি বলেছিলেন, তার মৃত্যুর পর বড় ছেলে চার্লস রাজা হলে ‘ডাচেস অব কর্নওয়াল’ ক্যামিলা হবেন ‘কুইন কনসর্ট’ এবং এটিই তার প্রত্যাশা।

চার্লস রাজা হলে রাজপরিবারে তার স্ত্রী ক্যামিলার কী উপাধি হবে তা নিয়ে বছরের পর যে বিতর্ক চলে আসছিল, রানির ওই ইচ্ছার পর সেই বিতর্কের অবসান ঘটে।

নিজের মৃত্যুর পর ছেলে ও পুত্রবধূর প্রতি সবাইকে সমর্থন জানানোর জন্যও আহ্বান জানিয়েছিলেন রানি।

প্রয়াত রানিকে শেষ বিদায় এবং স্বামীর সিংহাসনে আরোহণের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন ক্যামিলা। ব্রিটিশ রাজা হিসাবে প্রথম বক্তৃতায় নিজের স্ত্রী সম্পর্কে চার্লস বলেছেন, “আমি জানি, তিনি (ক্যামিলা) তার কর্তব্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠায় নতুন ভূমিকা নিয়ে আসবেন, যার ওপর আমি অনেকখানি নির্ভরশীল।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক