মাঙ্কিপক্সে ভারতে প্রথম মৃত্যু

ভারতের কেরালা রাজ্যে গত শনিবার মাঙ্কিপক্সে মারা যান ২২ বছরের এক যুবক। সদ্যই সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কেরালায় ফিরেছিলেন তিনি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 02:42 PM
Updated : 1 August 2022, 02:42 PM

মাঙ্কিপক্স আগেই থাবা বসিয়েছে ভারতে। এবার এ রোগে মৃত্যু হল কেরালা রাজ্যের এক যুবকের। ভারতে মাঙ্কিপক্সে এটিই প্রথম মৃত্যু।

বিবিসি জানায়, গত শনিবার মারা যান ২২ বছরের ওই যুবক। গত মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে কেরালায় ফিরেছিলেন তিনি।

কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ সোমবার বলেছেন, বিদেশে থাকাকালেই যুবকের মাঙ্কিপক্স পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ ফল এসেছিল। মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষাতেও তার দেহে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই আমিরাতে ওই যুবকের মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়। ২১ জুলাই কেরালার ত্রিশুরে ফেরার পর জ্বর আর ক্লান্তি নিয়ে ২৭ জুলাই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

তার দেহে র‌্যাশ কিংবা মাঙ্কিপক্সের কোনও উপসর্গ ছিল না। তার মাঙ্কিপক্স রিপোর্ট ‘পজিটিভি’ আসার কথা ৩০ জুলাইয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদেরকে জানিয়েছিল পরিবার।

হাসপাতালে ওই যুবকের অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং মারা যাওয়ার আগে তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ।

মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত হয়েই যুবকের মৃত্যু হয়েছে কি-না, তা নিশ্চিত হতে তার নমুনা পাঠানো হয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে। সেখানে সোমবার পরীক্ষার ফলে তার মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

মাঙ্কিপক্স সংক্রমিত ওই যুবকের মৃত্যু নিয়ে কেরালা এখন তদন্তে নামছে। তিনি চিকিৎসা নিতে দেরি করেছিলেন কেন তা খতিয়ে দেখা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ সাংবাদিকদের বলেছেন, যুবকটির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ২০ জনকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচনায় আলাদা করে রাখা হয়েছে। এই ২০ জনের মধ্যে আছে- তার বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের সদস্যরা এবং সম্প্রতি তার সঙ্গে ফুটবল খেলা আরও ৯ জন।

ভারতে এখন পর্যন্ত চারজনের মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন কেরালা ও একজন রাজধানী দিল্লির। কেরালার তিনজনই বিদেশফেরত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত মাসেই মাঙ্কিপক্সকে বিশ্ব জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। বিশ্বজুড়ে ৭৫টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মাঙ্কি পক্স। আক্রান্তের সংখ্যা ১৬,০০০ ছাড়িয়েছে। আফ্রিকার বাইরে এ রোগটিতে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মৃত্যুও হয়েছে চারজনের।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক