টাইগার শ্রফ নয়, হামলাকারীদের নিশানায় ছিলেন আমির, কেন বদলাল টার্গেট?
ভারতের বলিউড অভিনেতা আমির খানের বাড়ির আশপাশে একাধিকবার রেকি করেছিল হামলাকারীরা। পরে আমিরের নাগাল না পেয়ে নিশানা বদল করে তারা।
ভারতের বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য।
গুলিবর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তরা পুলিশকে জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে অবস্থানের সময় তাদের নজরদারিতে কেবল টাইগার ছিলেন না; বরং অভিনেতা আমির খান, অমিতাভ বচ্চন এবং অক্ষয় কুমারের বাসভবনেও তারা নজরদারি ও রেকি চালিয়েছিল।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলাকারীরা জানিয়েছে, চক্রটির মূল ও প্রাথমিক লক্ষ্য ছিলেন অভিনেতা সালমান খান। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুটাররা সালমানের বান্দ্রার বাসভবন ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের’ আশপাশে রেকি করেছিল। কিন্তু সেখানকার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে তারা সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
সালমান খানের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর হামলাকারীরা আমির খান, অমিতাভ বচ্চন ও অক্ষয় কুমারের বাড়ি রেকি করে। মুম্বাই পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার আগে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সদস্যরা প্রায় এক মাস আমির খানের বান্দ্রার বাসভবনের আশপাশে অবস্থান নিয়ে তিনটি পৃথক সময়ে নজরদারি চালায়।
আমির খানের বাড়ির আশপাশে অন্তত তিন বার ঘুরে বেড়িয়েছিল অভিযুক্তরা। ২০ সেপ্টেম্বর হরিয়ানা থেকে মুম্বইয়ে যান অভিযুক্ত ফুল সিং ও রেহান আনসারি। প্রায় এক মাস ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকার সময় আমিরের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করেছিল তারা।
তবে শুটিংয়ের কাজে ঘন ঘন বাইরে থাকা কিংবা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকার কারণে হামলাকারীদের পক্ষে আমিরের কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল বলে এনডিটিভিকে জানিয়েছে একটি সূত্র। ধারণা করা হচ্ছে, আমিরের এই স্বভাব ও নাগালের বাইরে থাকার বিষয়টিই শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করেছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরজু বিষ্ণোই ও টাইসন বিষ্ণোই নামের ব্যক্তিদের বরাতে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপ ও পোস্টে দাবি করা হয়, গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ‘লাভ জিহাদ’কে উৎসাহিত করে এবং তা ‘সনাতন’ সংস্কৃতির পরিপন্থি। এজন্য অভিনেতাকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভারতের কোনও আনুষ্ঠানিক আইনে ‘লাভ জিহাদ’ পরিভাষাটির কোনো সংজ্ঞা নেই এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কাছেও এটি স্বীকৃত নয়। ২০২০ সালে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোকসভায় জানিয়েছিল, দেশের বর্তমান আইনে ‘লাভ জিহাদ’ বলে কোনো বিষয়ের সংজ্ঞায়ন নেই।
সাধারণত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তুলে মুসলিমদের নিশানা করতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নজরদারির তথ্য সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি এবং ওই ভাইরাল অডিও খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।
আমিরের কাছে পৌঁছাতে না পেরে হামলাকারীরা সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পরিকল্পনা বদলে টাইগার শ্রফকে নিশানা করে। সূত্র জানায়, ইনস্টাগ্রাম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন রিল দেখে হামলাকারীরা জানতে পারে যে টাইগার শ্রফ প্রতি রোববার ফুটবল খেলতে জুহুর পুষ্পা নার্সি গ্রাউন্ডে যান। সেখানে তার ভারী নিরাপত্তা না থাকায় তাকে একটি ‘সহজ নিশানা’ হিসেবে বিবেচনা করে তারা হামলার পরিকল্পনা করে।
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথে জুহু এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আশির দশকের জনপ্রিয় নায়ক জ্যাকি শ্রফের ছেলে টাইগার শ্রফ গাড়ির বন্ধ জানালার কাচের ওপাশ থেকে হাত নেড়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন।
এ সময় একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুই ব্যক্তি তার গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত টাইগার শ্রফ বড় ধরনের কোনো আঘাত ছাড়াই বেঁচে যান; তবে তার গাড়ির চালক ও এক পথচারী আহত হন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা এর আগে ১১ অক্টোবর ওই ফুটবল মাঠে গিয়েছিল। কিন্তু ওই দিন টাইগার খেলতে না আসায় তারা ফিরে যায়। এক সপ্তাহ পরে ফের সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করছিল বন্দুকধারীরা। টাইগার বেরোতেই তার উপরে হামলা হয় বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের মতে, বলিউডের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এবং শীর্ষ কোনও তারকাকে নিশানা করার উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করা গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিতকে এ মামলায় ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে পুলিশ।
পণ্ডিত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
