১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেপাল দিয়ে এভারেস্ট চূড়ায় একদিনে রেকর্ড ২৭৪ পর্বতারোহী

ভালো আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বুধবার অনেকেই চূড়ায় উঠতে পেরেছেন, বলেছেন নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা খিমলাল গৌতম।

নেপাল দিয়ে এভারেস্ট চূড়ায় একদিনে রেকর্ড ২৭৪ পর্বতারোহী
চলতি বছর নেপাল ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উঁচু শৃঙ্গে যেতে ইচ্ছুক ৫০০ বিদেশিকে এভারেস্ট আরোহনের অনুমতি দিয়েছে। এক মৌসুমে এত বিদেশিকে অনুমতি দেওয়ার ঘটনাও আগে দেখা যায়নি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 May 2026, 11:58 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:39 PM

একদিনে ২৭৪ পর্বতারোহী নেপালের দিক দিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন।

পর্বতশীর্ষে ওঠার পথে বড় একটি বরফের চাঁই বাধা হয়ে থাকায় এ বছর বসন্তকালে দেরিতে পর্বতারোহন শুরু হয়েছিল। তারমধ্যেই বুধবার একদিনে সবচেয়ে বেশি পর্বতারোহীর এভারেস্টে ওঠার নতুন রেকর্ড হল, বলছে বিবিসি।  

এভারেস্ট ক্রনিকলকে নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা খিমলাল গৌতম বলেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে ইচ্ছুকরা এদিন পর্বত চূড়ায় ওঠার চেষ্টায় ভালো আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন।

বুধবার আরোহন শুরু হয় স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে, চলে পরের ১১ ঘণ্টা, বলেছেন তিনি।  

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে ২২৩ জন নেপাল অংশে অবস্থিত এভারেস্টের দক্ষিণ দিক দিয়ে চূড়ায় উঠেছিলেন। বুধবারের আগ পর্যন্ত সেটাই ছিল একদিনে নেপাল দিয়ে এভারেস্ট শীর্ষে ওঠা সর্বোচ্চ পর্বতারোহীর সংখ্যা। 

২০১৯ সালের ২২ মে তিব্বত দিয়েও ১১৩ পর্বতারোহী এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছিলেন। দুই দিক মিলিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক এভারেস্ট আরোহন সেদিনই দেখা গিয়েছিল। 

চীন এ মৌসুমে এভারেস্টের ওই উত্তরের পথ দিয়ে আরোহন বন্ধ রেখেছে। 

চলতি বছর নেপাল ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উঁচু শৃঙ্গে যেতে ইচ্ছুক ৫০০ বিদেশিকে এভারেস্ট আরোহনের অনুমতি দিয়েছে। এক মৌসুমে এত বিদেশিকে অনুমতি দেওয়ার ঘটনাও আগে দেখা যায়নি। 

এর ফলে এভারেস্টের যাত্রাপথে ভিড় ও নানান নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।  

বেশিরভাগ পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার চেষ্টায় অন্তত একজন নেপালি গাইডকে সঙ্গে নেন। ওই নেপালি গাইডের এভারেস্ট আরোহনে অনুমতি লাগে না। 

পর্বতারোহীদের লম্বা লাইন বরফের ঢাল বেয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ৮ হাজার মিটার উচ্চতায় থাকা ‘ডেথ জোন’ দিয়ে এগোচ্ছে—কয়েকদিন ধরেই সোশাল মিডিয়ায় এমন একাধিক ছবি দেখা যাচ্ছে।  

ওই উচ্চতায় বেশিরভাগ পর্বতারোহীকেই সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কৃত্রিম অক্সিজেনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই ‘ডেথ জোনে’ ২০ ঘণ্টার বেশি থাকা ঠিক নয় বলেই মত বেশিরভাগ পর্বতারোহন বিশেষজ্ঞের।  

এ বছর নেপালি কর্তৃপক্ষ এভারেস্ট আরোহনে অনুমতির ফি-ও বাড়িয়েছে, তারপরও পর্বতারোহীর সংখ্যা না কমে বেড়েছে। 

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নেপালি দিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ এ পর্বতশৃঙ্গে আরোহন চেষ্টায় অনুমতি পেতে গুনতে হচ্ছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ১৮ লাখ টাকার বেশি)। আগের প্রায় এক দশক ধরে এ ফি ছিল ১১ হাজার ডলার।

বেশি সংখ্যক অনুমতি দেওয়ায় এবার এভারেস্টের পথে ভিড় থাকবে বলে অভিযান আয়োজনকারী সংস্থাগুলো স্বীকার করে নিলেও পর্বতারোহীরা ঠিকঠাক ‘ম্যানেজ’ করে নিতে পারবেন বলেই তাদের আশা।   

“যদি দলগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিয়ে যেতে পারে তাহেল এটি বড় সমস্যা নয়,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন অস্ট্রিয়াভিত্তিক ফুর্টেনবাখ অ্যাডভেঞ্চার্সের লুকাস ফুর্টেনবাখ।  

আল্পসের কিছু কিছু পর্বতের চূড়ায় কোনো কোনোদিন হাজার হাজার পর্বতারোহীকে দেখা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পর্বত (এভারেস্ট) ওটার ১০ গুণ বড়—এটা বিবেচনায় নিলে ২৭৪ সংখ্যাটা আসলে বেশি নয়।” 

এ মৌসুমে অনেক অভিজ্ঞ পর্বতারোহী তাদের নিজ নিজ রেকর্ড আরও বাড়িয়ে নিয়েছেন। প্রথমবার এভারেস্ট চূড়ায় উঠেছেন এমন পর্বতারোহীও এবার কম নয়। 

রোববার খ্যাতনামা নেপালি গাইড, ৫৬ বছর বয়সী কামি রিতা শেরপা ৩২তম বারের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ এ পর্বতশৃঙ্গের ‍চূড়ায় উঠে নিজের রেকর্ড লম্বা করেছেন।   

একইদিন ‘পর্বতরাণী’ খ্যাত ৫২ বছর বয়সী লাখপা শেরপাও ১১তম বার এভারেস্ট পাড়ি দিয়ে নিজের রেকর্ড ভাঙলেন। নারী পর্বতারোহীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি বার এ চূড়ায় উঠেছেন। 

বৃহস্পতিবার ৩৪ বছর বয়সী রুশ নাগরিক রুস্তম নাবিয়েভও এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছান। তার দুই পা কাটা। কোনো কৃত্রিম পা ছাড়াই হাতের সাহায্যে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ এ পর্বতশৃঙ্গ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন।

এবারের মৌসুম একাধিক মৃত্যুও দেখেছে। ৩৫ বছর বয়সী, নেপালের সুবিধাবঞ্চিত হিন্দু দলিত সম্প্রদায় থেকে আসা প্রথম পর্বতারোহী বিজয় গিমেরে এভারেস্টের শীর্ষে উঠতে গিয়ে উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভুগে মারা গেছেন বলে একাধিক খবরে জানানো হয়েছে। 

ক্যাম্প থ্রি-র কাছে বরফে পিছলে গিয়ে গভীর ফাটলে পড়ে সোমবার ২১ বছর বয়সী ফুরা গিয়ালজেন শেরপার মৃত্যু হয়েছে। ৩ মে বেইজ ক্যাম্পে যাওয়ার পথে মারা যান ৫১ বছর বয়সী গাইড লাকপা দেন্দি শেরপা।