১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘যুদ্ধবিরতি ও শত্রুতা শেষের পরিকল্পনার রূপরেখা’ পেয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান শত্রুতা শেষ করার একটি রূপরেখা তৈরি করেছে আর তা রাতের মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করেছে।

‘যুদ্ধবিরতি ও শত্রুতা শেষের পরিকল্পনার রূপরেখা’ পেয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে ইরান। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Apr 2026, 03:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:21 PM

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শত্রুতা শেষ করার ও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার একটি পরিকল্পনার রূপরেখা পেয়েছে বলে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে অবগত এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। 

তিনি জানান, এসব প্রস্তাব সোমবার থেকেই কার্যকর হতে পারে আর হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। 

সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান শত্রুতা শেষ করার একটি রূপরেখা তৈরি করেছে আর তা রাতের মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করেছে। এই রূপরেখায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও একটি ব্যাপক চুক্তিসহ দ্বি-স্তরীয় একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।  

সূত্র বলেছেন, “আজকে (সোমবার) সব বিষয়ে একমত হতে হবে।” 

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বোঝাপড়াটি একটি সমঝোতা স্মারক হিসেবে তৈরি করা হবে আর তা আলোচনায় যোগাযোগের একমাত্র চ্যানেল পাকিস্তানের মাধ্যমে ইলেকট্রনিভাবে চূড়ান্ত করা হবে।  

এর আগে রোববার অ্যাক্সিওস মার্কিন, ইসরায়েলি ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলোর বরাতে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল দ্বি-স্তরীয় একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন, যার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটতে পারে।

রয়টার্সকে ওই সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ‘রাতভর’ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যে ছিলেন। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ফের খোলা হবে। এর মধ্যে প্রণালিটির জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে আর সরাসরি চূড়ান্ত আলোচনা হবে ইসলামাবাদে। এই প্রস্তাবগুলোকে অস্থায়ীভাবে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ বলা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

ইরানি কর্মকর্তারা এর আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, তেহরান একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায় যেখানে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের হামলা চালাবে না। তারা পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন।  

ওই সূত্র জানান, চূড়ান্ত সমঝোতায় নিষেধাজ্ঞায় ছাড় ও জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না, এমন প্রতিশ্রুতি দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

পাকিস্তানের দুই সূত্র জানিয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও ইরান এখনও কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। 

এক সূত্র জানান, পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলোর পক্ষে এখনও কোনো প্রতিশ্রুতি আসেনি। 

এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে চীনের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। 

আরও পড়ুন: 

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রইরানমধ্যস্থতাকারীরা