Published : 08 Jun 2026, 03:33 PM
ইউক্রেইনে শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু করতে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের সাহায্য চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি আব্রামোভিচকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
মে মাসে তাদের মধ্যে এই আলাপ হয় বলে রোববার প্রকাশ করা এক খবরে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) । সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানিয়েছে।
আর রোববার স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্রামোভিচের সঙ্গে ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি নিজেই।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আব্রামোভিচ এসেছিলেন আর তিনি আমাকে এই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে, আমরা (ইউক্রেইন) কী করতে প্রস্তুত, তা তারা (রাশিয়া) জানতে চায়।”
জেলেনস্কি জানান, তিনি আব্রামোভিচকে পুতিনের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে বলেন যে ‘ইউক্রেইন কখনোই দনবাস অঞ্চল সমর্পণ করবে না’।
পাশাপাশি রাশিয়া বা বেলারুশের বাইরে যেকোনো দেশের এক শহরে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।
জেলেনস্কি বলেন, “আমি বলেছি আপনি আগামীকাল থেকে যেকোনো সময়, যেকোনো দিন এবং যেকোনো ফরমেট বেছে নিতে পারেন।”
অবশ্য এই বৈঠক নিয়ে জেলেনস্কির বক্তব্য এবং ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্যের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে বলে জানিয়েছে কিইভ ইনডিপেন্ডেন্ট।
ইনডিপেন্ডেন্টের সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেলেনস্কিই মে মাসে আব্রামোভিচকে কিইভে আমন্ত্রণ জানান এবং পুতিনের কাছে একটি বার্তা পাঠাতে বলেন, যেখানে ইউক্রেইনীয় প্রেসিডেন্ট মুখোমুখি শীর্ষ বৈঠকে বসার বিষয়ে তার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ভিন্ন দিকে থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেইন যে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিইভ মূলত সেটিই দেখাতে চেয়েছিল।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, গত ২১ মে কিইভ সফর শেষে আসা রাশিয়ার ব্যবসায়িক মহলের এক প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন।
পুতিন জানান, তিনি সেই প্রতিনিধিকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, ওই ব্যবসায়ী (নাম উল্লেখ করেননি) কোনো দাপ্তরিক বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাবলে এই বার্তা বহন করেননি।
অন্যদিকে, ইউক্রেইনীয় সরকারের একটি সূত্র দেশটির সংবাদমাধ্যম 'সুসপিলনে'-কে ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছে, তা জেলেনস্কির বক্তব্যের সঙ্গেই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ওই সূত্রটি জানায়, যুদ্ধ অবসানে ইউক্রেইনের শর্তগুলো কী, তা জানতেই মূলত রাশিয়ার পক্ষ থেকে জেলেনস্কি ও আব্রামোভিচের মধ্যকার এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
রোমান আব্রামোভিচ হলেন রাশিয়ার একজন বিলিয়নেয়ার এবং ফুটবল ক্লাব চেলসির সাবেক মালিক। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে যুক্তরাজ্য তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাকে চেলসি ক্লাবটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য করা হয়।
জেলেনস্কি-পুতিন শীর্ষ বৈঠক আয়োজনে আব্রামোভিচের এই মধ্যস্থতার চেষ্টাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার মাত্র তিন দিন আগে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন জেলেনস্কি।
ওই চিঠিতে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার জনগণকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছিল, এই যুদ্ধ মস্কোর জন্য একটি কানাগলি। ২০২২ সালের পর পুতিনের কাছে এটিই ছিল জেলেনস্কির প্রথম কোনো সরাসরি বার্তা।
এফটি-কে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আব্রামোভিচের মাধ্যমে পুতিনের কাছে পাঠানো বার্তাটির মূল কথা খোলা চিঠির মতোই ছিল, তবে এর ভাষা ছিল তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক।
অবশ্য খোলা চিঠিটিকে ‘অশোভন’ আখ্যা দিয়ে পুতিন ইতিমধ্যেই জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব পুনরায় নাকচ করে দিয়েছেন।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিক থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছেন আব্রামোভিচ। তিনি এর আগে বন্দী বিনিময় এবং কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তির আলোচনা সফল করতে সহায়তা করেছিলেন।
আব্রামোভিচের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডনাল্ড ট্রাম্প ফের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রাশিয়া সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করায় এই ধনকুবেরের ভূমিকা কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও, তিনি এখনো কিইভ ও মস্কোর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।