১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জাপানে ৪৩০ কোটি ইয়েনের দুই সহস্রাধিক ভুয়া অর্ডার, নারী গ্রেপ্তার

পুলিশকে নিজের এই কান্ডের পেছনে যুক্তি দেখিয়ে এই নারী বলেন, দৈনন্দিন জীবনের মানসিক চাপ কমাতে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছিলেন।

জাপানে ৪৩০ কোটি ইয়েনের দুই সহস্রাধিক ভুয়া অর্ডার, নারী গ্রেপ্তার
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 09:00 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

অর্ডার করেছিলেন জাপানের ৪৩০ কোটি ইয়েন (প্রায় ২৭ থেকে ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের জনপ্রিয় অ্যানিমে ও ম্যাঙ্গা চরিত্র সিরিজগুলো, কিন্তু পরে তার একটিও কেনেননি। 

অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ২ হাজারের বেশি ভুয়া অর্ডার দেওয়া ও তা বাতিলের অভিযোগে জাপানে ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

জাপানের এফএনএন প্রাইম অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া মেয়ু ইয়োশিদা পেশায় এক রেস্তোরাঁকর্মী। 

জাপানের বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ‘শুয়েইশা’র অনলাইন স্টোর ব্যবহার করে জনপ্রিয় ‘ওয়ান পিস’সহ বিভিন্ন অ্যানিমেশন সিরিজের হাজার হাজার মার্চেন্ডাইজ অর্ডার করেছিলেন তিনি।

পণ্যগুলোর দাম মেটানো বা গ্রহণ করার কোনো ইচ্ছা ছাড়াই ইয়োশিদা এই ভুয়া অর্ডার দেন। এ কাজের জন্য তিনি অন্তত ২৩৮টি পৃথক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছিলেন বলে জাপানি সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে। 

পুলিশ জানায়, অর্ডার বাতিলের জন্য বেশ কয়েকটি কৌশল খাটিয়েছিলেন ইয়োশিদা। 

কোনও কোনও ক্ষেত্রে তিনি ‘কনভেনিয়েন্স স্টোর’ ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের বিকল্প বেছে নিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা দিতেন না। শুধু এই পদ্ধতিতেই তিনি প্রায় ৪৩০ কোটি ইয়েনের পণ্য বাতিল করেছেন।

এছাড়া ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বা পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধের শর্তেও তিনি অর্ডার দিতেন। কিন্তু পার্সেল পৌঁছানোর পর তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতেন। এভাবে তিনি ২,১০০টিরও বেশি অর্ডার বাতিল করেছেন।

টেলিভিশন আসাহি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়োশিদা মাঝেমধ্যে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেও অর্ডার দিতেন, যার ফলে পণ্য ডেলিভারি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ত।

বারবার এভাবে পণ্য অর্ডার ও বাতিলের কারণে শিপিং এবং আনুষঙ্গিক খরচে শুয়েইশা কোম্পানির প্রায় ৭৫ লাখ ইয়েন ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এফএনএন।

তদন্তকারীদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন ইয়োশিদা। তিনি জানান, অ্যানিমে পছন্দ করায় এবং ক্যারেক্টার মার্চেন্ডাইজ দেখতে 

জাপানি পুলিশকে তিনি বলেন, দৈনন্দিন জীবনের মানসিক চাপ কমাতেই তিনি এসব করতেন। 

স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই কোনো পণ্য অর্ডার করতে পারলে তিনি এক ধরনের আনন্দ ও মানসিক তৃপ্তি পেতেন।

আসাহি নিউজকে ইয়োশিদা বলেন, “অর্ডার করার পর আমার মন শান্ত হতো এবং আমি মানসিক তৃপ্তি পেতাম।” 

তবে প্রকাশনা সংস্থা শুয়েইশার প্রতি তার কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ ছিল না বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ছয় বছর আগে ইয়োশিদা প্রথম ওই অনলাইন স্টোর ব্যবহার শুরু করেন এবং শুরুতে স্বাভাবিক নিয়মেই কেনাকাটা করতেন। 

তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তিনি নিয়মিত ভুয়া অর্ডার দেওয়া ও তা বাতিল করা শুরু করেন, যা টানা প্রায় দুই বছর ধরে চলছিল।

ঘটনাটি ঘটেছে শুয়েইশা কোম্পানির ‘জাম্প ক্যারেক্টার্স স্টোর’-এ, যেখানে জনপ্রিয় মানগা ও অ্যানিমে সিরিজের অফিশিয়াল মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করা হয়।

শুয়েইশা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়োশিদার এই কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ক্রেতারা ন্যায্যভাবে পণ্য কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। 

এফএনএন-কে কোম্পানিটি জানায়, তারা পুলিশের কাছে ওই নারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

জাপানি আইন অনুযায়ী ‘জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজে বাধা সৃষ্টির’ অভিযোগে ইয়োশিদাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।