Published : 03 Sep 2026, 01:22 PM
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুরু করা সামরিক অভিযান ‘দীর্ঘস্থায়ী’ হবে না।
জুলাইয়ের শেষ দিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত করার পর চলতি সপ্তাহের রোববার থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে ফের হামলা শুরু করে। এর মধ্যে বুধবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ইরানের আরব প্রতিবেশী দেশগুলো আবার তীব্র যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউজের ওভাল দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান একটি রকেট নির্মাণের চেষ্টা করছে যেটি মাইন ফেলতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্র সেটি ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইরান তাদের রেডার ও ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতিও পুনর্বহালের জন্য কাজ করছে, মার্কিন হামলায় সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালির তীর বরাবর তারা নতুন যে সরঞ্জামগুলো নির্মাণের চেষ্টা করেছে আমরা সব ধ্বংস করে দিয়েছি। এগুলোর কিছু আক্রমণাত্মক আর কিছু প্রতিরক্ষামূলক। গত রাতের হামলাটি অত্যন্ত তীব্র ছিল আর আমরা আরেকটির প্রস্তুতি নিয়েছি যা আমাদের চাওয়া মতো যে কোনো সময় ঘটতে পারে।”
ইরানের স্বাস্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায় ১৮ জন নিহত ও আরও ১০৮ জন আহত হয়েছেন। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কোহেস্তাক এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে মার্কিন হামলায় চার বেসামরিক নিহত আরও ৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের আকস্মিক তীব্রতা বৃদ্ধি ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা পারস্য উপসগারীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা এসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনযোগে হামলা চালানো হয়েছে আর তারা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে সেগুলো প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে।
জুলাই মাসের শেষ দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সর্বশেষ সংঘর্ষের পর থেকে লড়াই প্রায় স্তিমিত হয়ে এসেছিল, যদিও এই মধ্যবর্তী সময়ে শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে এই যুদ্ধ অজনপ্রিয় হলেও আর এর কারণে দেশটিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বেশি সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে রেখেছেন, যদিও এখন বলছেন এ পর্বের সামরিক অভিযান ‘দীর্ঘস্থায়ী’ হবে না।
আরও পড়ুন: জুলাইয়ের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা