Published : 12 Aug 2026, 04:24 PM
ইরান যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার মধ্যে লোহিত সাগর ও ওমান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে পৃথক হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন তাদের শর্ত না মানা পর্যন্ত জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান দুটি রুট, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখের ওমান উপসাগর এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৮ দশমিক ৯১ ডলারে এবং মার্কিন ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে।
বুধবার লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে মিসরের মালিকানাধীন 'তিহামা' নামের একটি ছোট মালবাহী জাহাজে সন্দেহভাজন হুতি হামলায় চারজন ক্রু সদস্য নিহত হয়।
এ সময় উদ্ধারকাজে আসা হুতি-বিরোধী সামরিক গোষ্ঠীর দুই ইয়েমেনি কোস্ট গার্ড সদস্যও প্রাণ হারান। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক নৌপথে হুতিদের হামলায় এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।
হুতি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবা জানায়, তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ-অবরোধ অমান্য করায় পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটির স্টিয়ারিং ব্যবস্থা বিকল করে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার।
রয়টার্স জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে পাকিস্তানের উপকূল থেকে ৭১ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।
ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে ।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
গত রোববার রেজায়ি ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি সমন্বয় পর্ষদের দ্বিতীয় শীর্ষ পদে নিয়োগ পান।
তিনি বলেছেন, ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলের সংঘাত বন্ধ করার শর্ত ওয়াশিংটনকে মেনে নিতে হবে।
এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ‘এখন সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে’ বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে পশ্চিম এশিয়ায় দাপট দেখানো দেশটি আর সেই অবস্থানে নেই।”
এছাড়া গত ৫০ বছরের বিভিন্ন যুদ্ধ ও হামলার জন্য ইরানকে উল্টো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নতুন দাবি তুলেছেন ট্রাম্প।
সোমবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে এ অনিশ্চয়তা কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।
ইরানিদের ‘খুব চতুর মধ্যস্থতাকারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, হয়তো তিনি বিষয়টিকে এভাবে চলতে দিয়ে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেবেন, অথবা তাদের ওপর ‘খুবই কঠিন আঘাত’ হানবেন।
মঙ্গলবার ওহাইও সফরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “যেকোনো মুহূর্তে তারা (ইরান) কোনো কিছু করার চেষ্টা করতে পারে এবং তখন তাদের উড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।”
তুরস্কে সম্ভাব্য ইরানি আততায়ীর হুমকির মুখে এয়ার ফোর্স ওয়ানের বদলে গোপনে ক্যাটারিং ট্রাকে করে সামরিক বিমানে স্থানান্তরের ঘটনা নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের বার্তার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, “যেকোনো প্রভাবশালী প্রেসিডেন্টের ওপরই বহু হুমকি থাকে, আমি কোনো কিছু নিয়ে পরোয়া করি না।”
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে মঙ্গলবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নকদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেছেন, তারা এখন ‘শত্রুর ভূখণ্ডে গিয়ে সরাসরি অভিযান’ চালানোর সক্ষমতা অর্জন করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানও ওমান, জর্ডান, কুয়েত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।