‘নাটক করে ঋণ শোধ হয় না’: জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কড়া আক্রমণ
সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে একথা বলেন ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে ভারত বলেছে, অন্যের ভূখণ্ড দখলের লোভ করে কিংবা সন্ত্রাস রপ্তানি না করে ঋণের বোঝায় ধুঁকতে থাকা নিজেদের ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতেই ইসলামাবাদের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
কারণ, সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে কিংবা জাতিসংঘ পরিষদে নাটক করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না পাকিস্তান। যে ঋণের উপরে পাকিস্তানের অর্থনীতি টিকে আছে।
বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে (ইউএনএইচআরসি) পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী একথা বলেন।
বর্তমান নীতি ও কৌশল দিয়ে পাকিস্তান নিজেদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ত্যাগী বলেন, “অন্যের ভূখণ্ডের দখলের আকাঙ্খা বা সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস রপ্তানি করার চেয়ে দেশের উন্নয়নের দিকে নজর দিলেই পাকিস্তানের জনগণ বেশি উপকৃত হবে। কারণ, এসব অপকর্ম কিংবা জাতিসংঘে তাদের নাটকীয়তা, কোনোটিই ঋণ শোধ করতে সহায়ক হবে না।”
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) গত জুন থেকে চলমান বিক্ষোভে বহু বেসামরিক লোক নিহতের তথ্য তুলে ধরে সেখানে যে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা সামনে আনেন ক্ষিতিজ ত্যাগী। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের মতো জরুরি সরবরাহ আটকে রাখার জন্য স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা শুরু থেকেই ইসলামাবাদকে দায়ী করে আসছে।
ভারতীয় ওই কূটনীতিক বলেন, “গত শুক্রবারই জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে জানানো হয়েছিল যে, পাকিস্তান অধিকৃত ভূখণ্ডে জুন থেকে কত বেসামরিক মানুষ মারা গেছেন। সেখানে কীভাবে খাদ্য ও ওষুধ আটকে রাখা হয়েছে এবং ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে কত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে তথ্যও পরিষদকে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সেই সত্য তুলে ধরার পর পাকিস্তানের একমাত্র জবাব ছিল একটি পয়েন্ট অব অর্ডার। এই কক্ষে থাকা কোনও দেশ যদি মানবাধিকার পরিষদের কড়া নজরদারির শর্ত পূরণ করে, তবে সেটি পাকিস্তান।”
জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে ভারত পুনরায় অন্যায্যভাবে দখল করে রাখা অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে আহ্বান জানায়।
কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাস্তুচ্যুত করা এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী পাঠানোর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ক্ষিতিজ ত্যাগী।
তিনি বলেন, “পাকিস্তান যেসব সন্ত্রাসীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে পাঠিয়েছে, তারা সব ধর্মের কাশ্মীরিদের হত্যা করেছে, যাদের বড় একটি অংশই মুসলিম। অথচ সন্ত্রাসবাদের সেই পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রটিই এখন এই পরিষদের কাছে তদন্তের দাবি জানাচ্ছে! এই চরম স্ববিরোধিতা নিশ্চয়ই পরিষদের দৃষ্টি এড়াবে না।”
এদিকে, সিন্ধু পানি চুক্তি সংক্রান্ত মধ্যস্থতা আদালতের (কোর্ট অব আরবিট্রেশন) সাম্প্রতিক রায়কে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) পাকিস্তানের পাঠানো এক চিঠির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, “নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি ও ক্ষতিকারক প্রোপাগান্ডা ছড়াতে তথ্যের বিকৃতি ঘটানো পাকিস্তানের পুরোনো অভ্যাস।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “পাকিস্তানের মন্ত্রী যে তথাকথিত ‘স্থায়ী মধ্যস্থতা আদালতের’ রায়ের কথা প্রচার করছেন, তা আদতে ওই আদালতের কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি বেআইনিভাবে গঠিত আদালতের রায়। বাস্তবতাকে বিকৃত করার এটি তাদের আরেকটি অপচেষ্টা মাত্র। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান শুরু থেকেই অত্যন্ত স্পষ্ট।”
