Published : 29 Jul 2026, 12:14 PM
সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘পূর্বপরিকল্পি নিখুঁত আক্রমণ’ চালিয়েছে।
ইরাকের এই গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার জন্য দায়ী বলে বুধবার অভিযোগ করেছে রিয়াদ, খবর আল জাজিরার।
সেন্টকম জানিয়েছে, এর আগের ৭২ ঘণ্টায় সৌদি আরবে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলা হয়েছে। তারপরই ইরাকে ওই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সেন্টকম অভিযোগ করে বলেছে, “ইরাক থেকে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা হয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নির্দেশনায়।”
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য তারা যাদের দায়ী করেছিল সেই ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর ওপর আঘাত হানা হয়েছে। রিয়াদ উত্তেজনা বৃদ্ধি চায় না কিন্তু যে কোনো ‘আগ্রাসনের’ জবাব দেবে।
সৌদি আরবে চালানো ওই হামলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে বুধবার অনামা একটি সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, সৌদি আরবে মার্কিন স্বার্থের ওপর হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোটা ছিল একটি ‘বড় ধরনের ভুল হিসাব’।
বুধবার সৌদি আরব জানায়, তাদের এয়ার ডিফেন্স ইরাক থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে। এটি দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটিতে দ্বিতীয় ড্রোন হামলা ছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলার কথা ঘোষণা করা হয়।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি মঙ্গলবার বলেছেন, ইরাক থেকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ড্রোনগুলো ছুড়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, রিয়াদ ‘উপযুক্ত সময় ও স্থানে’ এর জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।
ইরাকের বার্তা সংস্থা আইএনএর খবরে বলা হয়েছে, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) বসরা দপ্তর জানিয়েছে যে তাদের স্থানীয় কমান্ড সদরদপ্তরকে বিমান হামলার লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে আর এতে তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছে।
পিএমএফ আরবিতে হাশদ আল-শাবি নামে পরিচিত। এটি মূলত শিয়া আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোর একটি সমন্বিত সংগঠন, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একীভূত হয়েছে। পিএমএফে বেশ কয়েকটি উপদল রয়েছে যারা ইরানের মিত্র গোষ্ঠী।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদি এই ড্রোন হামলার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরাক প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ চালাতে তার ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না।