যুক্তরাজ্য সফরে ট্রাম্প, দেখা করবেন রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে
যুক্তরাজ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর এটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রেসিডেন্টের এই নজির নেই।
যুক্তরাজ্যে দুইদিনের সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতেই ট্রাম্প ও তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া লন্ডনে পৌঁছেছেন।
লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে নামেন তারা। সফরকালে রাজা তৃতীয় চার্লস, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
আলোচনা হতে পারে বাণিজ্য কিংবা বিনিয়োগ চুক্তি থেকে শুরু করে ইউক্রেইন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে। যুক্তরাজ্যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর এটি। এর আগে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন নজির নেই।
ট্রাম্প এর আগে ২০১৯ সালে প্রথম যুক্তরাজ্য সফর করেছিলেন। এবার লন্ডনে পদার্পনের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভাল। আর আপনারা জানেন চার্লস এখন রাজা। তিনি আমার বন্ধু। এই প্রথম এমনটি ঘটল, যেখানে কাউকে দু’বার সম্মান জানানো হল। সুতরাং এটি বিরাট সম্মান।”
লন্ডনে ট্রাম্পকে লাল গালিচা সংবর্ধনাসহ যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান গার্ড অফ অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্প লন্ডনে পৌঁছোনোর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস দু’দেশের মধ্যে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চুক্তির কাজ এগিয়ে রাখেন।
দুইদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে একটি ‘ট্রান্স-আটলান্টিক টাস্কফোর্স’ গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের কার্যালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সম্পর্ক। এর পেছনে ২৫০ বছরের ইতিহাস আছে। এদেশে ট্রাম্পের এই সফর ট্রান্স-আটলান্টিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।”
বুধবার উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজা তৃতীয় চার্লসের আতিথেয়তা গ্রহণ করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে রাজকীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া।
তার পর বৃহস্পতিবার চেকার্সে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জাতীয় নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উঠতে পারে ইউক্রেইন প্রসঙ্গও।
ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ট্রাম্প ইউক্রেইন নিয়ে কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার জন্য আবার ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
সেকারণেই ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরে ইউক্রেইন-রাশিয়া প্রসঙ্গ আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
