Published : 07 Aug 2026, 10:18 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে তার উত্তরসূরি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স নাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও- কাকে সমর্থন করবেন তা নিয়ে প্রকাশ্যে ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছেন।
জনসমক্ষে ট্রাম্প উভয় নেতারই ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং কাকে সমর্থন দেবেন সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। তবে গোপনে তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জে ডি ভ্যান্সকেই বেছে নিয়েছেন বলে খবর চাউর হয়েছে।
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে রিপাবলিকান পার্টির বড় দাতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প।
সেখানে তিনি বলেছিলেন, "দিনশেষে, আমাদের জে ডি (ভ্যান্স)-কেই নির্বাচিত করতে হবে।" ট্রাম্পের এমন মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মনে মনে তিনি ভ্যান্সকেই উত্তরসূরি হিসাবে চাইছেন।
অথচ প্রকাশ্যে ট্রাম্প ভ্যান্স এবং মার্কো রুবিও দুজনকেই অত্যন্ত প্রতিভাবান বলে বর্ণনা করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি রুবিওকে ‘ইতিহাসের অন্যতম সেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ আখ্যা দেন, আবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে ভ্যান্সের কাজেরও প্রশংসা করেন।
তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে, ২০২৮ সালের নির্বাচনে ভ্যান্স এবং রুবিও একসঙ্গে ‘যৌথ টিকিটে’ (প্রেসিডেন্ট ও রানিং মেট) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সেই জুটিকে হারানো অসম্ভব হবে।
তবে ভেতরের সম্পূর্ণ ভিন্ন খবরই সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির দাতাদেরকে ভ্যান্সকেই সমর্থন করার আর্জি জানিয়েছেন।
এই খবর ফাঁসের পর ট্রাম্প অবশ্য রিপাবলিকান দাতাদেরকে ভ্যান্সকে নিয়ে এমন কিছু বলার কথা অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন পত্রিকা ‘দ্য হিল’। সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেছেন যে, ২০২৮ সালের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে কথা বলার সময় এখনও আসেনি এবং এ নিয়ে কথা বলাটা অনেক বেশি আগেভাগে হয়ে যায়।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ শিবিরের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা এবং হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারাও বলেছেন যে, ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তাদের ভাষ্য, তিনি প্রায়ই একেকজনকে একেক কথা বলেন। তাই এখনই জে ডি ভ্যান্সের নাম চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, ট্রাম্প যে কোনও সময় তার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন।
তাছাড়া, ট্রাম্প এখনও অনানুষ্ঠানিকভাবে তার উপদেষ্টাদের কাছে ভ্যান্স আর রুবিওর তুলনামূলক মূল্যায়ন করাচ্ছেন বা তাদের সম্পর্কে মতামত নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, গত মাসের শেষদিকে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে ভ্রমণের সময়ও ট্রাম্প দুই নেতাকে নিয়ে তার উপদেষ্টাদের মতামত জানতে চেয়েছিলেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো মূলত তাদের পররাষ্ট্রনীতি, রাজনৈতিক আদর্শ এবং পটভূমিতে। ট্রাম্পের পরবর্তী ২০২৮ সালের রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাদের আদর্শগত তফাতগুলো বর্তমানে আলোচনায় উঠে এসেছে।
ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার পক্ষপাতী। তিনি সাধারণত বিদেশে যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধী। সম্প্রতিক সময়ে তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির জন্য উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের বৈরুত হামলার মতো বিষয়ে তিনি কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে, মার্কো রুবিও ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল ও কূটনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। দীর্ঘমেয়াদি জোট ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে তিনি সোচ্চার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া তার নীতি।
লাতিন আমেরিকায় প্রতিপক্ষ বা মার্কিনবিরোধী শক্তির প্রভাব খর্ব করতে কঠোর সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপকে তিনি সমর্থন করেন। ওদিকে, ইরানের ক্ষেত্রে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা বিলোপ করা, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার বন্ধের পক্ষে তিনি।
ইয়েমেনের হুতি ও অন্যান্য আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইরানের মদদ দেওয়াকে রুবিও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করেন। তার মতে, এই গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে ইরান আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী দৌড়ের জন্য জে ডি ভ্যান্স এবং মার্কো রুবিও এখনও প্রকাশ্যে কোনও ঘোষণা দেননি। তবে ভ্যান্স দলীয় পরিমণ্ডলে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন এবং রুবিও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে চললেও- দুইজনেরই সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।
ভ্যান্স প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, তিনি এখনই ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন না এবং নিজ দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করেছেন। ওদিকে রুবিও-ও জানিয়েছেন, নিজের কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন এবং মেয়াদ পূর্ণ করাই এখন তার অগ্রাধিকার।