Published : 20 Feb 2025, 01:15 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরাশাসক’ আখ্যা দিয়ে শান্তি সুরক্ষিত করতে তাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অথবা তার দেশ হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন।
বুধবার ট্রাম্প জেলেনস্কিকে আক্রমণ করেই দিন পার করেছেন। এতে দুই নেতারা মধ্যে বিরোধ আরও গভীর হয়েছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের জন্য ইউক্রেইনকেই দায়ী করার পরদিন জেলেনস্কিকে তীব্র বাণে বিঁধেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে, তাদের আশঙ্কা, ইউক্রেইনের যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্প যেভাবে এগোচ্ছেন তাতে হয়তো মস্কোই লাভবান হবে।
সৌদি আরবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনায় ইউক্রেইনকে বাদ রাখার প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার তৈরি করা ‘ভুল তথ্যের জগতে’ বাস করছেন। এরপরই ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণে আক্রমণে তুলোধুনো করেন ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “নির্বাচন ছাড়া একজন স্বৈরশাসক, জেলেনস্কির উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া আর না হলে তার কোনো দেশই থাকবে না।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর ফ্লোরিডায় সৌদি সমর্থিত এক বিনিয়োগ বৈঠকে জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরাশাসক’ আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, “জো বাইডেনকে বেহালার বাজানোর মতো খেলতে জেলেনস্কি সত্যিই ভাল ছিলেন।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “তিনি নির্বাচন করতে অস্বীকার করেছেন। ইউক্রেইনের প্রকৃত জনমত জরিপে তার অবস্থান অনেক নিচে। প্রতিটি শহর ধ্বংস হয়ে গেলে আপনি কীভাবে উচুঁ হতে পারেন?”
ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ বলার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় নেতারা সমালোচনামুখর হয়ে ওঠেন।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেন, “প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির গণতান্ত্রিক বৈধতা অস্বীকার করা পুরোপুরি ভুল ও বিপজ্জনক।”
বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে তার প্রতি স্পষ্ট সমর্থন জানিয়েছেন।
ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইউক্রেইনের ‘গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা’ হিসেবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন স্টারমার।
মুখপাত্র বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য যেভাবে নির্বাচন স্থগিত করেছিল, সেভাবে ইউক্রেইনের নির্বাচন স্থগিত করা ছিল পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত।”
ট্রাম্প গত মাসে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পরই রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে গেছে। বাইডেন প্রশাসন দৃঢ়ভাবে ইউক্রেইনের পাশে থাকলেও তার পরে প্রেসিডেন্ট পদে বসা ট্রাম্পের অবস্থান এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি রাশিয়া ঘেঁষা।
সৌদি আরবে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার পরই ইউক্রেইন যুদ্ধের দায় পুরোপুরি কিইভের ওপরই চাপিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও ২০২২ সালে ইউক্রেইনে আক্রমণ শুরু করেছিল রাশিয়া।
আর কেবল যুদ্ধের দায় চাপানোই নয়, নির্বাচন না করে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট পদে জেলেনস্কির থেকে যাওয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন এবং জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা ৪ শতাংশে নেমে গেছে বলে দাবি করেছেন।
জেলেনস্কির পাঁচ বছরের ক্ষমতার মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২২ এর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করলে সামরিক শাসন জারি করে নির্বাচন স্থগিত করে ইউক্রেইন।
আরও পড়ুন: