১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সোশাল মিডিয়া দেখে বন্দুক চালানো শেখে থাইল্যান্ডের স্কুলে হামলাকারী কিশোর

স্কুলে হামলা চালানো কিশোরের নিশানা ছিল নিখুঁত। তবে তদন্তে কোনও শুটিং ক্লাবে গিয়ে কিশোরের বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি- বলছেন ফরেনসিক কর্মকর্তারা

সোশাল মিডিয়া দেখে বন্দুক চালানো শেখে থাইল্যান্ডের স্কুলে হামলাকারী কিশোর
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 06:47 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

থাইল্যান্ডে নিজ বাড়ি ও স্কুলে নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী কিশোর ও তার স্বজনসহ মোট ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

হামলাকারী ওই কিশোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখে বন্দুক চালানো শিখেছিল বলে রোববার জানিয়েছে পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংস কনটেন্ট দেখা, পড়াশোনা নিয়ে মানসিক চাপ, পারিবারিক জটিলতা এবং বন্ধুদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার কারণে ওই কিশোর এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আতথাপোল অনুসিথের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ওই কিশোরের হামলার পেছনের মূল কারণ জানতে পুলিশ এ পর্যন্ত ১৭ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। 

আলামত হিসেবে কিশোরটির ব্যবহৃত পিস্তল, গুলির খোসা, তার মোবাইল ফোন এবং স্কুলের ব্যাগে রাখা একটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে।

ফরেনসিক কর্মকর্তারা জানান, কিশোরটির ছোড়া গুলির নিশানা ছিল ‘বেশ নিখুঁত’ এবং অধিকাংশ গুলিই ভুক্তভোগীদের শরীরের সংবেদনশীল অংশে লেগেছে। তবে তদন্তে কোনও শুটিং ক্লাবে গিয়ে কিশোরের বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

তার কম্পিউটার ঘেঁটে দেখা গেছে, সে সোশ্যাল মিডিয়ায় সহিংসতার নানা কনটেন্ট নিয়মিত দেখত। এছাড়া এর আগে অনলাইন থেকে কেনা একটি ‘বিবি গান’ স্কুলে নিয়ে গেলে শিক্ষকরা সেটি জব্দ করেছিলেন।

রাজধানী ব্যাংককের সীমান্তবর্তী ননথাবুরি প্রদেশের বিখ্যাত ‘দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল’-এর শিক্ষার্থী ছিল ওই কিশোর। ঘটনার দিন সে প্রথমে তার দাদার পিস্তল দিয়ে বাড়িতে দাদা ও দাদীকে গুলি করে হত্যা করে। 

এরপর ওই পিস্তল নিয়ে স্কুলে গিয়ে শিক্ষক ও সহপাঠীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর দুই বছর বয়স থেকেই সে তার দাদা-দাদীর কাছে বড় হচ্ছিল। তার এক শিক্ষক তাকে ‘ভালো ফলাফল করা ভালো ছাত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেন। 

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, কিশোরটির দাদী একজন শিক্ষক ছিলেন এবং নাতির প্রতি হয়ত কিছুটা কড়া মেজাজের ছিলেন।

কিশোরটির মা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ছেলে ‘মেধাবী ও প্রফুল্ল স্বভাবের’ ছিল। তিনি আরও বলেন, “আমরা মানসিকভাবে পুরো ভেঙে পড়েছি, কারণ কেউ ভাবেনি এমনটি ঘটবে।”

অন্যদিকে, মর্মান্তিক এ ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন ওই কিশোরের বাবা।

মর্মান্তিক এই হামলায় থাইল্যান্ড জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গুলিতে আহত হওয়ার দুই দিন পর হাসপাতালে মারা যাওয়া ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর বৌদ্ধ রীতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। 

বিবিসি লিখেছে, সংবাদ সংস্থা এএফপিকে ওই ছাত্রীর সংগীত শিক্ষক জানান, সে নাচতে ভালোবাসত এবং স্কুলের সব কর্মকাণ্ডে উৎসুক থাকত। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম রক্তক্ষয়ী এই ঘটনার পর দেশে নতুন কঠোর অস্ত্র আইন আনার ঘোষণা দিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী।