Published : 09 Jul 2025, 01:45 PM
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পার্বত্য অবকাশযাপন শহর রুইডোসোতে ভারি বৃষ্টিতে দেখা দেওয়া আকস্মিক বন্যায় বাড়ি ও গাড়িতে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন।
মঙ্গলবারের এ বন্যা একটি পুরো বাড়িকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বলে অঙ্গরাজ্যটির জরুরি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘটনার নাটকীয় ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ভিত্তিসহ উঠে আসা একটি পুরো বাড়ি বন্যায় প্লাবিত রিও রুইডোসো নদীর বাদামি, কর্দমাক্ত পানির সঙ্গে ভাটির দিকে ভেসে যাচ্ছে।
নিউ মেক্সিকোর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এন্ড ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টের এক মুখপাত্র ড্যানিয়েল সিলভা বলেছেন, “আমি ভিডিওটি দেখেছি। আমরা জানিনা ওই বাড়ির ভেতরে কেউ ছিলেন কি না।”
বিকালে আকস্মিক বন্যার সময় রিও রুইডোসো নদীর পানি সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ২৪ ফুট (৬ দশমিক ২ মিটার) উচ্চতায় উঠে গিয়েছিল
এই আকস্মিক বন্যায় কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সিলভা জানিয়েছেন, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী ও ন্যাশনাল গার্ডের মাধ্যমে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা জরুরি টিমগুলো রুইডোসো ও এর আশপাশে দ্রুতবেগে বইতে থাকা পানির কারণে বিভিন্ন বাড়িতে ও গাড়িতে আটকা পড়া অন্তত ৮৫ জনকে উদ্ধার করেছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রেকর্ড করা তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকালে আকস্মিক বন্যার সময় রিও রুইডোসো নদীর পানি সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ২৪ ফুট (৬ দশমিক ২ মিটার) উচ্চতায় উঠে গিয়েছিল।
সন্ধ্যায় বন্যার পানি নামতে শুরু করার পর আবর্জনার মধ্যে জীবিত কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে কর্তৃপক্ষ তল্লাশি শুরু করে।
সিলভা জানান, গত জুনে এই এলাকার বনগুলো দাবানলে পুড়ে গিয়েছিল, তার পরপরই এক দফা বন্যা হওয়ায় মাটি বেশ ক্ষয় হয়েছিল, এবার পানির ঢল নেমে আসার সময় তাই আবর্জনার পরিমাণও অত্যন্ত বেশি ছিল।
নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর আলবুকার্ক শহর থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে সিয়েরা ব্লাঙ্কা পর্বতমালার কাছে অবস্থিত রুইডোসো একটি ছোট পাহাড়ি শহর। এটি একটি জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন অবকাশযাপন কেন্দ্র। এই অঞ্চলটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হাইকিং ট্রেইল, স্কি রিজর্ট এবং ঘোড়দৌড়ের জন্য পরিচিত।
রুইডোসোর এই আকস্মিক বন্যার মাত্র চার দিন আগে প্রতিবেশী টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের টেক্সাস হিল কান্ট্রিতে ভারি বর্ষণের পর গুয়াডালুপে নদী অববাহিকা এলাকায় সৃষ্ট প্রাণঘাতী হড়কা বানে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনো ১৮০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন।