০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনের কুচকাওয়াজে সংহতি দেখিয়ে এক মঞ্চে শি–পুতিন–কিম

বেইজিংয়ের সামরিক কুজকাওয়াজে প্রথমবারের মতো সংহতির প্রকাশ ঘটিয়ে এক মঞ্চে হাজির হন চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নেতা। নতুন অস্ত্রে ঝলসে ওঠে হাজারো সেনার প্যারেড গ্রাউন্ড।

চীনের কুচকাওয়াজে সংহতি দেখিয়ে এক মঞ্চে শি–পুতিন–কিম
পুতিন, শি ও কিম । ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Sep 2025, 12:31 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:14 PM

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের দিন উদ্‌যাপনে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো সংহতির প্রকাশ ঘটিয়ে এক মঞ্চে হাজির হয়েছেন চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নেতা।

বুধবার রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে স্থানীয় সময় সকালে শুরু হয় অনুষ্ঠান। নতুন সব অস্ত্রে ঝলসে ওঠে হাজারো সেনার কুচকাওয়াজের বিশাল ময়দান। কুচকাওয়াজ শুরুর আগেই নজর কাড়ে শি, পুতিন ও কিমের একসঙ্গে মঞ্চে ওঠা। 

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথমে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে করমর্দন করেন, তারপর পুতিনকে অভিবাদন জানিয়ে তিনজন একসঙ্গে এগিয়ে যান। এ মুহূর্তকেই মনে করা হচ্ছে পুরো আয়োজনে সবচেয়ে প্রতীকী দৃশ্য।

৫০ হাজার আমন্ত্রিত দর্শকের সামনে কয়েক হাজার সেনা শানিত শৃঙ্খলায় মার্চপাস্ট করেন। চাংআন অ্যাভিনিউতে সেনাদের পরিদর্শন করেন শি। পরে আকাশে উড়ানো হয় কবুতর ও রঙিন বেলুন, আর গণভবনে ভোজসভায় অতিথিদের পরিবেশন করা হয় চীনা মদ।

এই প্রদর্শনী কেবল চীন কোন অবস্থানে আছে বা কতদূর এগিয়েছে সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার বিষয়ই ছিল না বরং দেশটি কোথায় যাচ্ছে তার প্রদর্শনীও ছিল।

শি বিশ্ব নেতার ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা কবলিত নেতা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের পাশে দাঁড়াতে তিনি ছিলেন প্রস্তুত।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি বলেন, বিশ্ব এখন শান্তি ও যুদ্ধের মধ্যে কোনও একটিকে বেছে নেওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই চীন দেখিয়েছে, আধুনিকায়িত সেনাবাহিনী ও ভয়ংকর সব অস্ত্রের ভাণ্ডার—যার মধ্যে ছিল পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র, লেজার অস্ত্র, রোবোটিক ‘উলফ’, পানির নিচে চলা পারমাণবিক ড্রোন এবং নতুন প্রজন্মের আক্রমণাত্মক ড্রোন ‘লয়্যাল উইংম্যান’।

চীনের সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করে শি বলেন, ‘চীনের উত্থান অপ্রতিরোধ্য’। ৫ মিনিটের এক ভাষণে তিনি বলেন, “বিশ্ব যেন আর কখনও জঙ্গলের আইনে না ফেরে।” বিশেষভাবে কোনও পশ্চিমা দেশের নাম তিনি ভাষণে উল্লেখ করেননি। 

শি ভাষণে কেবল বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে আশা করব সব দেশ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে। শান্তিকে মূল্য দেবে এবং মানবতার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের গড়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করবে।”

কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার পর আলাদা করে বৈঠক করেন পুতিন ও কিম। আড়াই ঘণ্টার এই বৈঠকে ইউক্রেইন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানো ও গোলাবারুদ সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়। 

ধারণা করা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই প্রায় ১৫ হাজার উত্তর কোরিয়ান সেনা রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে গেছে। এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া অর্থসহ অস্ত্র উন্নয়ন সহায়তা পাচ্ছে।

পুতিন ও কিম ছাড়াও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ভিয়েতনামের লুয়ং কুওং ও জিম্বাবুয়ের এমারসন মানানগাগওয়া চীনের কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন। 

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন, আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও কুচকাওয়াজে যাননি। পশ্চিমা দেশগুলোর নেতাদের বড় অংশই এড়িয়েছেন এ আয়োজনে অংশ নেওয়া।

অনুষ্ঠানে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ তুলেছেন, শি জিনপিং রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দিন ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আপনারা যখন ষড়যন্ত্র করছেন।”

ক্রেমলিন মুখপাত্র ইউরি উশাকভ অবশ্য ট্রাম্পের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “এটা একেবারেই ব্যঙ্গাত্মক দাবি। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার কথা তারা ভাবেইনি।”