Published : 31 Jul 2026, 07:53 PM
নিউ ইয়র্কে গত জানুয়ারিতে নতুন আইন কার্যকরের পর থেকে এখন পর্যন্ত অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি কর্মীরা অতিরিক্ত প্রায় ১০ কোটি ৪ লাখ ডলার বকশিস পেয়েছেন।
খাবার বা পণ্য পৌঁছে দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে বকশিস নেওয়ার ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতারণামূলক কৌশলের কারণে এতদিন ডেলিভারি কর্মীরা এই অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
এই প্রতারণা বন্ধে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ‘নিউ ইয়র্ক সিটির ডেলিভারি কর্মী আইন’ কার্যকর করে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। এরপর থেকে ডেলিভারি কর্মীদের বকশিস প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
গত বুধবার মেয়র মামদানি ও ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনের কমিশনার স্যামুয়েল এ এ লেভিন ডেলিভারি ম্যানদের বকশিসের আয় নিয়ে এক প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
নিউ ইয়র্ক প্রশাসনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্কে অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি ম্যান রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার। বকশিস সুরক্ষা আইন কার্যকরের পর থেকে বছরে তারা অতিরিক্ত ১৮ কোটি ৪ লাখ ডলার বাড়তি আয় পেতে যাচ্ছেন। একজন সাধারণ কর্মীর জন্য বছরে যা প্রায় ২ হাজার ২৮৭ ডলার বাড়তি আয় যোগাবে।
মামদানি বলেন, বছরের পর বছর ধরে ডেলিভারি অ্যাপগুলো নিজেদের মুনাফা বাড়াতে ‘টিপ’ বা বকশিসের বোতাম লুকিয়ে রাখত। এর মাশুল গুনতে হত ডেলিভারি কর্মীদের।
“আমরা আইন পরিবর্তন করেছি। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করেছি এবং এর ফল পাচ্ছি। এবার ১০ কোটি ৪ লাখ ডলার সরাসরি সেই ডেলিভারি কর্মীদের পকেটে যাচ্ছে, যারা রোদ-বৃষ্টি সামলে এই শহরকে বাঁচিয়ে রাখে। নিউ ইয়র্ক কখনো শত কোটি ডলারের টেক কোম্পানিগুলোকে খেটে খাওয়া মানুষের টাকা থেকে মুনাফা বাড়াতে দেবে না।”
‘ইকোনমিক জাস্টিস’ বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি সু বলেন, “কোনো গ্রাহক টিপস বা বকশিস দিলে তা ডেলিভারি কর্মীর পাওনা, অ্যাপের নয়। এ অর্থ সেই কর্মীর পাওনা, যিনি চারতলার সিঁড়ি মাড়িয়ে ওঠেন কিংবা বৃষ্টির মধ্যে বাইক চালিয়ে আপনার দরজায় রাতের খাবার পৌঁছে দেয়।
“গত জানুয়ারি থেকে পুরো নিউ ইয়র্ক সিটিতে ডেলিভারি কর্মীরা অতিরিক্ত ১০ কোটি ৪ লাখ ডলার বেশি আয় করেছেন। এর কারণ আমরা কোম্পানিগুলোকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করেছি।”
জুলি সু বলেন, “আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ আইনের প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে। যেসব প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের ঠকানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও অব্যাহত থাকবে।”
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্ক সিটিতে অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি কর্মীদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হলে উবার ইটস ও ডোরড্যাশ এর মত বড় টেক প্ল্যাটফর্মগুলো কর্মীদের বকশিস নেওয়ার অপশন লুকিয়ে ফেলে।
নিউ ইয়র্কের ‘ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রটেকশন’ এর হিসাব অনুযায়ী, অ্যাপগুলোর সেই প্রতারণার কারণে ডেলিভারি কর্মীরা আনুমানিক ৫৫ কোটি ডলার বকশিস থেকে বঞ্চিত হন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অ্যাপগুলোতে গ্রাহকদের অর্ডার পেমেন্টের সময় বকশিস দেওয়ার অপশন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। সেখানে সরাসরি ১০ শতাংশ বকশিস, ইচ্ছামতো বকশিস এবং কোনো বকশিস না দেওয়ার অপশনও রাখা হয়।