Published : 30 Dec 2025, 12:39 AM
কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের পর নতুন সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কম্বোডিয়া লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী। চুক্তির শর্ত ভেঙে কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক ড্রোন পাঠিয়েছে বলে দাবি ব্যাংককের।
সোমবার থাই সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাতে কম্বোডিয়া সীমান্ত থেকে ২৫০ টিরও বেশি ড্রোন উড়ে আসতে দেখা গেছে। কম্বোডিয়ার এই পদক্ষেপ উসকানিমূলক এবং উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টার পরিপন্থি। তাদের কার্যকলাপ যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
চলতি মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর গত শনিবার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল, উভয় পক্ষ বর্তমান অবস্থানে সেনা স্থির রাখবে, কোনও শক্তি বৃদ্ধি করবে না এবং সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে দ্রুত ঘরে ফেরার সুযোগ দেবে।
এই চুক্তিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যা সফল করতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে উৎসাহ দিয়েছিল।
এমনকি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একে ‘কষ্টে অর্জিত সাফল্য’ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘দ্রুত ও ন্যায্য সমাধান’ বলে প্রশংসা করেছিলেন।
বন্দি মুক্তি নিয়ে হুঁশিয়ারি:
থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কম্বোডিয়া যদি এ ধরনের উস্কানি অব্যাহত রাখে, তবে থাইল্যান্ডকে জুলাই মাস থেকে তাদের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখতে হতে পারে।
থাইল্যন্ডের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন চলতে থাকলে থাইল্যান্ড এর সমুচিত জবাব দিতে বাধ্য হবে।
ওদিকে, কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন ড্রোন উড়ানোর ঘটনাটিকে 'ছোটখাটো একটি বিষয়' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিরোধের নেপথ্যে:
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে এই সীমান্ত বিরোধ শতবর্ষ পুরনো। তবে এ বছরের শুরুতে একটি বিতর্কিত মন্দিরে কম্বোডীয় নারীদের দেশাত্মবোধক গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মে মাসে এক লড়াইয়ে কম্বোডীয় সেনার মৃত্যুর পর দুই দেশের সম্পর্ক গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।
গত জুলাই ও অক্টোবরে দুই দফায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চলতি ডিসেম্বরের শুরুতে পুনরায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়। ২০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে অন্তত ১০১ জন নিহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এর আগে গত জুলাই মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়।
তবে চলতি মাসের শুরুতে সীমান্তে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হলে সেই শান্তি প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। ওই সময় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছিল।