১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ‘বিবেচনা’ করছে ইরান

“আমার মনে হয় আমরা জিতেছি,” বলছেন ট্রাম্প।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 May 2026, 11:07 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:34 PM

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তেহরান বলেছে, মার্কিন প্রস্তাব এখনো তাদের ‘বিবেচনাধীন’।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস মনে করছে তারা ইরানের সঙ্গে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হওয়ার ‘কাছাকাছি’ রয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের একজন ঊর্ধ্বতন সদস্য একে ‘অবাস্তব দাবি’ বলে উড়িয়ে দিলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরান নিজেদের মতামত পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের জানাবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, তার দেশ চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে আমেরিকার ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি চুক্তি হওয়া সম্ভব।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এ চুক্তিনামাকে এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার সমঝোতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা আরও বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার একটি ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফের অবাধে চলাচল।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং নাম প্রকাশ না করা দুই সূত্রের বরাতে এ খবর দিয়েছে অ্যাক্সিওস। তারা বলেছেন, সমঝোতার অনেক শর্তই একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর নির্ভরশীল।

অ্যাক্সিওসে প্রকাশিত খবর সঠিক বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতা সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে। যদিও প্রস্তাবটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বার্তা সংস্থা ইসনাকে বলেছেন, “আমেরিকান প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনা করছে ইরান এবং পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে মতামত পাকিস্তানকে জানানো হবে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি।

অ্যাক্সিওসের খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এক্স পোস্টে লিখেছেন, “আমেরিকানরা এই যুদ্ধে হারছে। লড়াই করে তারা আমাদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিতে পারেনি, আলোচনার টেবিলে বসেও তারা সেই সুবিধা আমাদের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে না।”

তিনি বলেন, ইরানের ‘আঙুল ট্রিগারে রয়েছে এবং প্রস্তুত’। 

সতর্ক করে ইব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘আত্মসমর্পণ না করে এবং প্রয়োজনীয় ছাড় না দেয়’, তবে ইরান একটি ‘কঠোর’ জবাব দেবে, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আফসোস করতে হবে। 

ট্রাম্পও নতুন করে আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন। তিনি তার ট্রুথ সোশাল প্লাটফর্মে লিখেছেন, ইরান যদি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে “বোমা হামলা শুরু হবে এবং দুঃখজনকভাবে এটি আগের চেয়ে অনেক উচ্চতর স্তর এবং তীব্রতায় হবে।”

তিনি এও বলেন, অপারেশন এপিক ফিউরি নামে ইরানে যে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান শুরু হয়েছিল, তা বন্ধ হবে যদি ইরান তার প্রস্তাব অনুযায়ী ছাড় দিতে রাজি হয়। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, লক্ষ্য অর্জনের পর অভিযানটি শেষ হয়েছে।

ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরান ‘অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি’ কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার ব্যাপারে রাজি হয়েছে; তবে তেহরান এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুই পক্ষের মধ্যে অন্যতম প্রধান বিরোধের জায়গা।

ট্রাম্প বলেন, “তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং খুব সম্ভবত আমরা একটি চুক্তি করে ফেলব।”

তিনি এও বলেন, “আমার মনে হয় আমরা জিতেছি।”

ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযান স্থগিত করছেন। এই অভিযান ঘোষণার করার কয়েক দিন পরই তা স্থগিত করলেন তিনি। হরমুজ প্রণালির পথে উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে বাইরে বের করে আনার মাধ্যমে তেলের প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এ অভিযান পরিচালনা করার কথা ছিল।

ইরান এখনো এই স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইঙ্গিত দিয়েছে, ‘আক্রমণের হুমকি বন্ধ হলে’ প্রণালিটি ফের খুলে দেওয়া হতে পারে।

বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়, সেই হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্ধ করে রেখেছে ইরান।

এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যার অধীনে তেহরান- সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করে, কিন্তু তারপর থেকে খুব কম জাহাজই প্রণালিটি অতিক্রম করতে পেরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করেছে এবং বলেছে, তারা ডজনখানেক জাহাজ থামিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বুধবার জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী ইরানি পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে তারা সেটিকে অকেজো করে দিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার বলেছেন, ইরান প্রশ্নে তার ও ট্রাম্পের মধ্যে ‘পূর্ণ সমন্বয়’ রয়েছে।

তিনি বলেন, “এখানে বিস্ময়ের কিছু নেই। আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সমস্ত সামগ্রী অপসারণ করা এবং ইরানের সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা ধ্বংস করা।”

নেতানিয়াহু সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র কমান্ডারকে নিশানা করেছে, যিনি “ইসরায়েলি বসতিতে গুলি চালানো এবং আইডিএফ সেনাদের ক্ষতির জন্য দায়ী।”

লেবানন-ভিত্তিক রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লা ইসরায়েল-বিরোধী ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ। ইরানের ওপর আক্রমণের প্রতিশোধ নিতে মার্চ মাসের শুরুতে তারা ইসরায়েলে হামলা করে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।