১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্যাস অনুসন্ধান: মিয়ানমারে সাগরে কূপ খননে কানাডার কোম্পানি

সাগরে সম্ভাবনাময় বিশাল একটি গ্যাস ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় থাকা মিয়ানমারের একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এ কাজ করছে কোম্পানিটি।

গ্যাস অনুসন্ধান: মিয়ানমারে সাগরে কূপ খননে কানাডার কোম্পানি
ছবি: দ্য ইরাবতি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 08:38 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত আন্দামান সাগরের মিয়ানমার অংশে কূপ খননের কাজ চলতি বছরের শেষ দিকে শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছে কানাডার অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ (সিএফজি)।

কানাডার কোম্পানিটি মিয়ানমারের এমন একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এ কূপ খনন কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেটির ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে তুলে ধরা হয়েছে দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে।

থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমটির মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এরইমধ্যে সাগরে এই কূপ খননে সিএফজির চেয়ারম্যান ও চীনা বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক সংনিং শেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই) এবং তানিনথারয়ি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী জাউ নাইং উ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। এ সময় তারা সাগরে এম-১৫ নামে ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন নিয়ে আলোচনা করেন।

পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, এমওজিইর মাধ্যমে পাওয়া অর্থ জান্তা সরকার খরচ করে মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোতে। 

এর আগে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সিএফজি ২০১৫ সালের মার্চ মাসে এমওজিইর সঙ্গে একটি উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে তানিনথারয়ি গভীর সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে ‘ব্লক এম-১৫’ কূপ খননের কাজ পায়।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে দ্য ইরাবতি বলছে, সিএফজির কূপ খননের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন গত জুনে মিয়ানমারের জান্তা সরকার চারটি নতুন অফশোর গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়।

‘ব্লক এম-১৫’ হল আন্দামান সাগরের কাদান দ্বীপের কাছে অবস্থিত প্রায় ১৩ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল গভীর সমুদ্রের প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান অঞ্চল।

ধারণা করা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রগুলোতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ আছে। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্রটি তানিনথারয়ি অফশোর এলাকায় অবস্থিত, যেখানে আনুমানিক ৯৫ টিসিএফ গ্যাস মজুদ থাকতে পারে; যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সম্ভাব্য গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।

সিএফজির ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্লক এম-১৫-এ তাদের ৮০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। 

বিবিসি বার্মিজ নিউজের তথ্য বলছে, এই প্রকল্প মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমপরিমাণ রাজস্ব তৈরি করার সক্ষমতা রাখে।

ইরাবতির খবরে বলা হয়, মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর, আন্তর্জাতিকভাবে এমওজিইর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কারণ প্রতিষ্ঠানটি দেশটির সামরিক জান্তার বৈদেশিক মুদ্রার সর্ববৃহৎ উৎস হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হয়।

তবে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সমন্বিত নিষেধাজ্ঞায় অংশ নিলেও কানাডা এখনো এমওজিই-এর ওপর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।

মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস ফর মায়ানমার’ ২০২৩ সালে কানাডা সরকারকে এমওজিই এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু কানাডা সরকার সেটি আমলে নেয়নি।