৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটির ঘটনায় ‘বিদেশি শক্তির হাত’ দেখছেন মার্কো রুবিও

পশ্চিম ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রস্তুতির সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্পষ্টতই বিদেশি রাষ্ট্রের হাত আছে বলে মনে করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটির ঘটনায় ‘বিদেশি শক্তির হাত’ দেখছেন মার্কো রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 12:23 AM

Updated : 30 Sep 2026, 12:23 AM

ইরানে হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহার করা যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রস্তুতির সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ‘বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

তিনি সোমবার ফক্স নিউজ-কে বলেন, ‘‘যা হয়েছে, যা হতে পারত যুক্তরাজ্যে, তা গুরুতর। এতে স্পষ্ট বিদেশি রাষ্ট্রের হাত রয়েছে। এখনও এ বিষয়ে বিশদে কোনও তথ্য আমার কাছে নেই।’’

"আমার মনে হয় এই ঘটনা আমাদের আসল বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়। আর বাস্তবতা হল, আমরা এমন কিছু দেশের মুখোমুখি হচ্ছি (যেমন ইরান), যারা সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দিয়ে রেখেছে”, বলেন রুবিও।

তবে তিনি তার কথার সপক্ষে কোনও প্রমাণ বা আর বিস্তারিত কোনও তথ্য দেননি। তেহরান জোরালোভাবে যুক্তরাজ্যের বিমাঘাঁটির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

গত রোববার পশ্চিম ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছ থেকে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই ছিল লন্ডনের বাসিন্দা। বয়স ২০ এর কোঠায়। সোমবার তাদেরকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

কী ঘটেছিল ফেয়ারফোর্ডে?

ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় সময় রোববার ভোররাতের দিকে। পুলিশ জানায়, মার্কিন বিমানঘাঁটির দিকে এগিয়ে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক সাদা ভ্যানের বিষয়ে খবর পায় তারা।

পরে স্থানীয় এক নারীও বিমানঘাঁটির কাছের একটি সড়কে তিনটি সাদা ভ্যান দেখতে পান। গাড়িগুলো রাস্তা ও একটি খামারের প্রবেশপথ আটকে রেখেছিল।

ওই নারী ব্যাকপ্যাক থাকা এবং হুড ও মাস্ক পরা একদল লোক দেখতে পান। তাকে দেখে কয়েকজন মাঠের দিকে এবং কয়েকজন পাশের কেম্পসফোর্ড গ্রামের দিকে দৌড়ে পালালে তিনি জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান।

তার ফোনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এলাকায় পৌঁছায়। পুলিশের অভিযানে সময় স্থানীয় প্রায় ৮৫টি পরিবারকে সাময়িকভাবে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়।

বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞরা তিনটি যানবাহন পরীক্ষা করেন এবং এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়।

রোববারের ওই ঘটনার পরে ব্রিটিশ সরকার জরুরি বৈঠকে বসে। তদন্তে নেমে বিস্ফোরণ আইনে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তারও করে। পরে তাদের জামিন দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি রাষ্ট্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক ঘটনার কারণেই তদন্তে সম্ভাব্য ইরানি যোগসূত্রের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক সূত্র রোববারেই জানিয়েছিল, ঘটনার পেছনে ইরানের হাত থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের জড়িত থাকার কোনওরকম সম্ভাবনা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস।

ইরানের সম্পৃক্ততার কোনও প্রমাণও এখনও মেলেনি। আটকদের সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ রয়েছে কি না বা তাদের লক্ষ্য বিমানঘাঁটিই ছিল কি না তাও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে রয়েছে এই আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি। পুরো ঘাঁটিটি দেখভাল করে রয়্যাল এয়ারফোর্স। তবে দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার করে আসছে মার্কিন সেনারা।

ঘাঁটির কাছ থেকে ৫ জন গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার।’

এর মধ্যেই ব্রিটিশ পুলিশকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। তিনি বলেন, ‘দারুণ ব্যাপার।

আমাদের ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা তাদের উপরে নজর রাখছিলাম। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে অসাধারণ কাজ হয়েছে।”