‘পরিবর্তনের জন্য সিআইএর সঙ্গে কাজ করুন’, কিউবার নাগরিকদের বললেন রুবিও
“যারা কিউবায় ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ আনতে চান, এখনই সঠিক সময়,” বলেন তিনি।
কিউবায় পরিবর্তন চাইলে দেশটির নাগরিকদের সিআইএর সঙ্গে অংশীদার হয়ে সরকার পতনে কাজ করতে বললেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
শুক্রবার এক্সে তিনি বলেন, “যারা কিউবায় ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ আনতে চান, এখনই সঠিক সময়।”
কিউবায় সরকারের ‘ব্যর্থ প্রতিশ্রুতি’, দুর্নীতি আর জীবনযাপন নিয়ে হতাশার কথা তুলে ধরে রুবিও বলেন, “সিআইএর সঙ্গে গোপন অংশীদারত্বের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার সুযোগ কাজ লাগান।”
কিউবার ওপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়াতে সামরিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা কয়েক মাস ধরেই প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এর মধ্যেই রুবিও কিউবায় পরিবর্তনের জন্য দেশটির নাগরিকদের সিআইএকে সহযোগিতা করতে বললেন।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে উপহাস করছেন কিউবার কর্মকর্তারা। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ দে কোসিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সিআইএর জন্য প্রকাশ্যে লোক নিয়োগের পথ ধরেছে। সংস্থাটির মধ্যে হয়ত ব্যাপক হতাশা বা দুর্দশা চলছে, যার কারণে নিজেদের সেবা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
কিউবাকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।
গত মাসে মার্কিন কেবল টেলিভিশন চ্যানেল সি-স্প্যানের একটি অনুষ্ঠানে ফার্নান্দেজ দে কোসিও বলেছিলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ কিউবার বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক শক্তি ব্যবহার হবে জঘন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ।”
পরবর্তীতে সিআইএ এক্সে একটি ভিডিও আপলোড করে, যেখানে গোয়েন্দা থাকতে পারে এমন ব্যক্তিদের সশরীরে নিকটস্থ কোনো মার্কিন দূতাবাসে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল স্প্যানিশ ভাষায়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল অবরোধের কারণে কিউবার নাগরিকরা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। জ্বালানি ঘাটতি ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে পড়ছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই তেল অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতারই প্রতিফলন।
ছয় দশকের বেশি সময় ধরে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে হাভানার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
