Published : 05 Aug 2026, 11:04 PM
জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেইনীয় কার্গো বিমানের কাছে বিস্ফোরক ডিভাইস বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে বিমানবন্দরের এক কর্মী এই বিস্ফোরক ডিভাইস দেখতে পাওয়ার পর সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ রোবোট মোতায়েন করা হয়। স্যাক্সনি রাজ্যের পুলিশ এ খবর জানিয়েছে।
দ্বিতীয় একটি অজ্ঞাত বস্তুও একই বিমানবন্দরের কাছে একটি পণ্যবাহী বিমানের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল। হ্যানোভারে অবতরণের পর বিমানটিতে সামান্য ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়।
সম্প্রতি কয়েক মাসে সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল, সমুদ্রবন্দর এবং পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা কোম্পানিসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে একের পর এক অননুমোদিত ড্রোন ওড়ার ঘটনার পর থেকেই জার্মানির বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই ড্রোন ওড়ানোর পেছনে রুশ এজেন্টদের হাত থাকতে পারে।
পূর্ব জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি জার্মান সামরিক বাহিনী এবং নেটো মিত্ররা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ব্যবহার করে থাকে এবং এটি ইউক্রেইনের আন্তোনভ এয়ারলাইন্সের একটি ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহার হয়- যেখানে বিমানে করে দেশটির বেশিরভাগ কার্গো বহন করা হয়।
এটি লজিস্টিকস গ্রুপ ডিএইচএল এর একটি প্রধান কেন্দ্রও। পুলিশের এক মুখপাত্র বিবিসি-কে বলেছেন, বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোনটি পার্ক করে রাখা আন্তোনভ বিমানগুলোর কাছে দেখা গিয়েছিল।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নিয়ে বিস্ফোরক ডিভাইস থেকে বিস্ফোরণ ঘটানোর যন্ত্রটি (ডেটোনেটর) সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুলিশ পরে এর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের উত্তরদিকের রানওয়েতে ফ্লাইট চলাচল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১ টা ৫৫ মিনিটে (জিএমটি ২৩:৫৫ মিনিটে) পুনরায় শুরু হয়েছে। দক্ষিণ দিকের রানওয়েটি এখনও বন্ধ রয়েছে।
জার্মানির স্যাক্সোনি প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমিন শুস্টার এই পরিস্থিতিকে একটি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘খুবই গুরুতর ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
জার্মানি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি। তবে জার্মানিতে নিযুক্ত ইউক্রেইনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সি ম্যাকিয়েভ ওয়েল্ট টিভিতে বলেছেন, “এটি রাশিয়া ছাড়া আর কে ঘটাতে পারে?”
তবে রাশিয়া এই ঘটনার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।