১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে এবার সোনার মজুদ সরাল নেদারল্যান্ডস

চলতি বছর ফ্রান্সের পর দ্বিতীয় ইউরোপীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনার মজুদ সরাল নেদারল্যান্ডস।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে এবার সোনার মজুদ সরাল নেদারল্যান্ডস
ফাইল ছবি, রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 12:33 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা সোনার মজুদ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে। আর এ তালিকায় সবশেষ যুক্ত হয়েছে নেদারল্যান্ডস। 

বুধবার ডাচ সেন্ট্রাল ব্যাংক ঘোষণা করেছে, তারা নিউ ইয়র্ক এবং কানাডা থেকে তাদের ৮৬ টন সোনার মজুদ লন্ডনে সরিয়ে নিচ্ছে।

ডি নেদারল্যান্ডশ ব্যাংক (ডিএনবি) এক বিবৃতিতে বলেছে, "উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যে এই মজুদের আরও সুষম বণ্টন হলে তা ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি যে কোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে এগুলো দ্রুত ব্যবহার করা সহজ হবে।"

ডাচ ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে রাখা সোনা আধুনিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মানদণ্ড পূরণ করে এবং একে বিশ্বের সবচেয়ে সহজে লেনদেনযোগ্য সোনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সংকটের সময় ডিএনবি খুব সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবে।

নিউজউইক এক প্রতিবেদনে লিখেছে, এই পদক্ষেপের আগে ডাচ ব্যাংকের সোনার মজুদের ৩১.৩ শতাংশ নিউ ইয়র্কে এবং ১৯.৭ শতাংশ কানাডার অটোয়াতে ছিল। বর্তমানে ওই দুই জায়গায় তাদের মজুদ কমে ১৮.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে লন্ডনের অংশ ১৮.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ডাচদের নিজস্ব ভল্টে রয়েছে মোট সোনার ৩০.৮ শতাংশ।

চলতি বছর ফ্রান্সের পর দ্বিতীয় ইউরোপীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনার মজুদ সরাল নেদারল্যান্ডস।

গত জানুয়ারিতে একই পদক্ষেপ নিয়েছিল ফ্রান্স। ব্যাংক ডি ফ্রান্স ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা তাদের ১২৯ টন সোনা বিক্রি করে দেয়, যা তাদের মোট মজুদের প্রায় ৫ শতাংশ। 

সোনা বিক্রির ওই অর্থ দিয়ে ব্যাংকটি ইউরোপে সমপরিমাণ নতুন সোনা কেনে, যা বর্তমানে ফ্রান্সের আগের মজুদের (প্রায় ২,৪৩৭ টন) সঙ্গে প্যারিসেই সংরক্ষিত রয়েছে।

সোনার মজুদ সরানোর এমন ঘটনা একেবারে নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে, প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বুন্দেসব্যাংক’ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে তাদের ৩০০ টন সোনা ফ্রাঙ্কফুর্টে সরিয়ে নেয়। দেশের অধিকাংশ সোনার মজুত দেশীয় ভল্টে সংরক্ষণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল জার্মানি।

গত বছর বাণিজ্য যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন মুদ্রানীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নিউ ইয়র্ক থেকে সোনা ফিরিয়ে আনার জন্য জার্মানি ও ইতালিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। 

প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ডলারের সোনা দেশে ফিরিয়ে আনার সেই চাপ দেশ দুটি সে সময় উপেক্ষা করেছিল। 

বিশ্বে সোনার মজুদের দিক থেকে জার্মানি দ্বিতীয় (৩,৩৫২ টন) এবং ইতালি তৃতীয় (২,৪৫২ টন) অবস্থানে রয়েছে। আর ৮,১৩৩ টন সোনা নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যাদের সোনা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে আছে 

অনেক দেশই তাদের সোনার মজুদের অবস্থান প্রকাশ করে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরানোর প্রবণতার মধ্যেও বেশ কিছু দেশের সোনার মজুদ এখনও ফেডারেল রিজার্ভে রয়ে গেছে।

জার্মানি: বুন্দেসব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানি এখনও তাদের সোনার মজুদের ৩৬.৬ শতাংশ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষণ করছে।

লেবানন: বাংকার ব্লগের তথ্য অনুযায়ী, লেবানন তাদের স্বর্ণ মজুদের আনুমানিক ৪০ শতাংশ নিউ ইয়র্কে রেখেছে।

ভারত: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সোনার মজুদ নিউ ইয়র্কসহ বিদেশের একাধিক ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে।

ইতালি: করিয়েরে দেল্লা সেরার তথ্য অনুযায়ী, ইতালির বাঙ্কা ডি'ইতালিয়া তাদের সোনার মজুতের ৪৩ শতাংশের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষণ করে।

ভেনেজুয়েলার সোনা উদ্ধার চেষ্টা 

সোনা দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজের পদক্ষেপটি বেশ আলোচিত। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ১৬০ টন সোনার মজুদ রাজধানী কারাকাসে ফিরিয়ে এনেছিলেন। 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে দেশের সম্পদ রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে সে সময় দাবি করেছিলেন চাভেজ। 

তবে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩১ মেট্রিক টন সোনা এখনও লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে আটকে আছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যাংকটি এর আগে এই সোনা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ গত মাসে জানিয়েছেন, নতুন সরকার ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে তাদের আন্তর্জাতিক সম্পদ উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা করছে। 

ওই সম্পদ সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং আবাসন, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ খাতের পুনর্বাসনের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যবহার করতে চায় ভেনেজুয়েলা।