১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুম ভেঙে বুকের ওপর পাইথন দেখলেন অস্ট্রেলীয় নারী

পাইথনটি ছিল ২ দশমিক ৫ মিটার লম্বা। অস্ট্রেলিয়ার এই নারী অত্যন্ত শান্তভাবে সাপটিকে জানালা দিয়ে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

ঘুম ভেঙে বুকের ওপর পাইথন দেখলেন অস্ট্রেলীয় নারী
ছবি: বিবিসি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jan 2026, 05:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে এক নারী মাঝরাতে ঘুম থেকে জেগে নিজের বুকের ওপর ২ দশমিক ৫ মিটার লম্বা একটি জ্যান্ত পাইথন কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। 

সোমবার রাতের এ ঘটনায় কারো ক্ষতি না হলেও র‌্যাচেল ব্লু নামের ওই নারী ও তার স্বামী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিবিসি-কে র‌্যাচেল জানান, ঘুমের ঘোরে তিনি বুকের ওপর ভারী কিছু অনুভব করেন। 

আধো ঘুমে তিনি ভাবেন তার পোষা কুকুরটি হয়ত শুয়ে আছে। কিন্তু কুকুরকে আদর করতে গিয়ে তিনি যখন মসৃণ ও পিচ্ছিল কিছু অনুভব করেন, তখনই তার সন্দেহ হয়।

র‌্যাচেল দ্রুত নিজেকে চাদরের নিচে গুটিয়ে নেন। তার স্বামী পাশের টেবিল ল্যাম্পটি জ্বালাতেই তাদের দুজনের চোখ কপালে ওঠে। 

র‌্যাচেল বলেন, তার স্বামী তখন নিচু স্বরে বলছিলেন, “ওহ বেবি, একদম নড়বে না। তোমার গায়ের ওপর অন্তত আড়াই মিটারের একটা পাইথন আছে।”

র‌্যাচেল জানান, তার প্রথম চিন্তা ছিল ঘরের ভেতর থাকা ডালমেশিয়ান জাতের কুকুরগুলোকে নিয়ে। কুকুরগুলো যদি সাপের অস্তিত্ব টের পেত, তবে ঘরে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

র‌্যাচেলের স্বামী দ্রুত কুকুরগুলোকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পর র‌্যাচেল খুব সাবধানে বিছানা থেকে নিচে নেমে আসেন এবং পাইথনটিকে ধরে জানালা দিয়ে বাইরে বের করে দেন। 

সাধারণত মানুষ এমন অবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেও র‌্যাচেল বেশ শান্ত ছিলেন। তিনি জানান, সাপের উপদ্রব আছে এমন এলাকাতেই তিনি বড় হয়েছেন। 

তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ শান্ত থাকলে সাপও শান্ত থাকে। তিনি বুঝতে পারেন, এটি একটি ‘কার্পেট পাইথন’, যা বিষাক্ত নয়। র‌্যাচেল বলেন, “সাপটি এত বড় ছিল যে তার লেজের অংশ তখনও জানলার বাইরেই ছিল।”

র‌্যাচেলের স্বামী এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়লেও র‌্যাচেলের কাছে এটি খুব বেশি ভীতিকর ছিল না।

 মজার ছলে তিনি বলেন, এটি যদি কোনও ‘কেন টোড’ (বিশালাকৃতির কুনো ব্যাঙ) হতো তবে তিনি হয়ত বমি করে দিতেন বা বেশি ভয় পেতেন, কারণ তিনি ব্যাঙ সহ্য করতে পারেন না।

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় এলাকায় কার্পেট পাইথন খুব সাধারণ একটি প্রাণী। এরা সাধারণত পাখি বা ছোট প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে এবং মানুষকে সচরাচর আক্রমণ করে না।