১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এপস্টাইন ফাইলস প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে এসব ফাইল প্রকাশের বিরোধিতা করে আসছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন।

এপস্টাইন ফাইলস প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস
কংগ্রেসের উভয়কক্ষই মার্কিন বিচার বিভাগকে এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের নির্দেশ দিতে সম্মত হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Nov 2025, 11:01 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেস প্রায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রয়াত দোষী সাব্যস্ত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের বিচার বিভাগের ফাইলগুলো জনসম্মুখে প্রকাশের অনুমোদন দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে এসব ফাইল প্রকাশের বিরোধিতা করে আসছিলেন, কিন্তু তিন দিন আগে তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন।

এরপর মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ফাইলগুলো প্রকাশের প্রস্তাবটি ৪২৭-১ ভোটে পাস হয়। এখান থেকে বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে পাঠানো হলে সেখানে এটি দ্রুত অনুমোদন পায়। এই বিলটি এখন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে আর বুধবারই এটি পাঠানো হতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   

এপস্টাইনকে নিয়ে সর্বজনীনভাবে প্রকাশযোগ্য নয় এমন নিয়ন্ত্রিত অশ্রেণীবদ্ধ সরকারি রেকর্ডগুলো জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য কংগ্রেসের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। আর কংগ্রেসের উভয়কক্ষই মার্কিন বিচার বিভাগকে এসব ফাইল প্রকাশের নির্দেশ দিতে সম্মত হয়েছে। 

হোয়াইট হাউজের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার ডেস্কে পৌঁছলেই বিলটিতে স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করেছেন ট্রাম্প। 

কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্পের পক্ষের জন্য এপস্টাইন কেলেঙ্কারি একটি রাজনৈতিক কাঁটা হয়ে আছে। এর আংশিক কারণ ট্রাম্প নিজেই তার সমর্থকদের মধ্যে এপস্টাইনের বিষয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উস্কে দিয়েছিলেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত দোষী সাব্যস্ত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত দোষী সাব্যস্ত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন।

ট্রাম্পের অনেক ভোটারের বিশ্বাস তার প্রশাসন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এপস্টাইনের সম্পর্ক এবং কারাগারে তার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আড়াল করছে। ২০১৯ সালে ম্যানহ্যাটনের এক কারাগারে এপস্টাইনের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।    

ধনকুবের বিনিয়োগকারী এপস্টাইন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা ছিলেন। তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। 

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা)’ আন্দোলনের অনেক সমর্থক বিশ্বাস করেন এপস্টাইন সম্পর্কিত তথ্য গোপন করে রাখা হয়েছে এসব প্রভাবশালীকে রক্ষা করার জন্য।

যৌনদাসী কেনাবেচা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ ছিল এপস্টাইনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, এপস্টাইনের পিডো দ্বীপের বিলাসবহুল প্রাসাদে চলত অবৈধ কার্যকলাপ। নাবালিকা, এমনকি শিশুদের দিয়ে চালানো হতো যৌন কাজ।

এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অতিথিরা সেখানে যেতেন। এপস্টাইনের যৌন কেলেঙ্কারির রেকর্ডে ট্রাম্পসহ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, স্টিফেন হকিং থেকে মাইকেল জ্যাকসন পর্যন্ত বিশ্বের প্রভাবশালী সব ব্যক্তির নাম আছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। 

শিশু–কিশোরীদের পাচার এবং জোর করে যৌনদাসীর হিসেবে ব্যবহার করানোর অভিযোগে কারাগারে ছিলেন এপস্টাইন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই মৃত্যু আত্মহত্যা না খুন তা নিয়ে বিতর্ক ছিল।