১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় দাবানল পরিস্থিতির অবনতি, জরুরি অবস্থা

এ অঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় দাবানল পরিস্থিতির অবনতি, জরুরি অবস্থা
এলাকা থেকে সরে যাওয়ার সময় বাসিন্দারা হাইওয়ের পাশে আগুনে স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য রেকর্ড করেন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Aug 2026, 03:09 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল পরিস্থিতি ভয়ানক রূপ নেওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রাতারাতি আগুন দ্বিগুণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই অঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, প্রদেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ওকানাগান হ্রদের পশ্চিমে ‘বল্ড রেঞ্জ’ নামের অনিয়ন্ত্রিত এই দাবানলটি দ্রুত ৯৫০০ হেক্টরজুড়ে (২৩ হাজার ৫০০ একর) ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সামারল্যান্ড, পিচল্যান্ডসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ জারি করা হয়। 

এই এলাকাটি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মূল ওয়াইন উৎপাদক অঞ্চল আর গোটা কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম ওয়াইন উৎপাদনকারী কেন্দ্র। চলতি গ্রীষ্মে এই প্রদেশে এলাকা খালি করার এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদেশটির প্রিমিয়ার (সরকারপ্রধান) ডেভিড ইবি এক দমকল কর্মকর্তার কথা উদ্ধৃত করে জানান, আগুনের তীব্রতা দেখে মনে হচ্ছিল ‘যেন কোনো বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে’।

ইবি বলেন, “১০০ ফুট উঁচু গাছের চূড়া ছাপিয়ে আরও ২০০ ফুট উঁচুতে আগুনের লেলিহান শিখা উঠছিল। আগুন নিজস্ব এক আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করেছে, এর ফলে ঘনঘন বিজলি চমকাচ্ছে আর আগুন আরও ছড়িয়ে পড়েছে।” 

তিনি জানান, বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাওয়ায় কিছু মানুষ আটকে পড়েছিলেন, তবে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। 

ইবি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত পরিবর্তনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

সামারল্যান্ডে প্রায় ১২ হাজার এবং পিচল্যান্ডে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ বসবাস করে। 

পেন্টিকটন থেকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস বলেন, “অনেক খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিক কতগুলো স্থাপনা পুড়ে গেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমাদের চরম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

হাইওয়েগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা রাতভর গাড়ি চালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যান। 

সামারল্যান্ডের বাসিন্দা টেরি ফ্রাইস জানান, শুক্রবার রাতে ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় এক প্রতিবেশী তাকে ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাত ১২টার দিকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ এলে তিনি পরিবার নিয়ে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে কেলোনা শহরে চলে আসেন। 

সরে যাওয়ার সময় বাসিন্দারা হাইওয়ের পাশে আগুনে স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য রেকর্ড করেন। 

শনিবার বিকেলে আকাশে লালচে-কমলা আভার সৃষ্টি হয় এবং ছাই পড়তে দেখা যায়। দাবানলের কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সামারল্যান্ডে পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অপরিশোধিত পানি সরবরাহ লাইনে ঢুকে পড়ে। ফলে বাসিন্দাদের পানি ফুটিয়ে খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারির ফলে প্রাদেশিক সরকার অবিলম্বে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি রোধ করা এবং উদ্ধারকাজ সমন্বয় করা।

কানাডার ইন্টারএজেন্সি ফরেস্ট ফায়ার সেন্টারের তথ্যমতে, চরম গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে চলতি বছর কানাডাজুড়ে দাবানলে ইতোমধ্যে ৪০ লাখ হেক্টর (৯৯ লাখ একর) বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনটারিও ও কেবেকসহ বিভিন্ন প্রদেশের আগুন নিয়ন্ত্রণে মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডের দমকল কর্মীরা কাজ করছেন।

শুধু ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতেই একশটিরও বেশি স্থানে আগুন নেভাতে প্রায় ১৫০০ জন দমকল কর্মী লড়াই করছেন। বর্তমানে প্রদেশটিতে ৪০টি এলাকা খালি করার নির্দেশ এবং ৪৯টি সতর্কবার্তা বহাল রয়েছে।