২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বড় চুক্তির লক্ষ্যে বাণিজ্যযুদ্ধে বিরতির মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

আগামী ১০ নভেম্বর এই বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ বাড়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বড় চুক্তির লক্ষ্যে বাণিজ্যযুদ্ধে বিরতির মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

স্কট বেসেন্ট। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 07:22 PM

Updated : 24 Sep 2026, 07:28 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবারের বহুল প্রতীক্ষিত শীর্ষ বৈঠকের আগে দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন ও বেইজিং।

আগামী ১০ নভেম্বর এই বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ বাড়ানোর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

সাময়িক ও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সমঝোতার বদলে একটি বড় একটি স্থায়ী অর্থনৈতিক চুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করতেই এই বাড়তি সময় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

বুধবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে বেসেন্ট বলেন, “ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপের চেয়ে আমরা বড় কোনও চুক্তি করতে পারি কি না, তা দেখতেই আলোচনায় বসেছিলাম। মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অর্জিত বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ দুই মাস বাড়ানোয় অর্থনৈতিক খাতে আমরা আরও কী করতে পারি, তা দেখার সুযোগ তৈরি হল।”

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাংক সদরদপ্তরে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। চার দিনের মধ্যে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসেন্টের এটি ছিল দ্বিতীয় বৈঠক।

এর আগে গত রোববার প্রায় ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনায় বেইজিং একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব তোলে। তবে সেই প্রস্তাবিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়।

আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে বেসেন্ট জানান, বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বিদ্যমান চুক্তির শর্তগুলো যেন বেইজিং পুরোপুরি মেনে চলে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন চাপ বজায় রাখছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানান, চুক্তি অনুযায়ী চীন ২৫ মিলিয়ন (২ কোটি ৫০ লাখ) টন সয়াবিন কিনলেও অন্যান্য ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

এছাড়া, চীন থেকে বিরল মৃত্তিকা খনিজ (রেয়ার আর্থ) সরবরাহেও বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে মার্কিন কর্মকর্তাদের।

আসন্ন ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠক

বৃহস্পতিবারের শীর্ষ বৈঠকে অপরিহার্য নয় এমন প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের সাধারণ পণ্যের ওপর থাকা শুল্ক প্রত্যাহার, আর্থিক সেবা খাত এবং অতিরিক্ত কৃষিপণ্য ক্রয়ের ওপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।

চলতি বছর ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য চারটি শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে বৃহস্পতিবারেরটি দ্বিতীয়।

পরবর্তী বৈঠকগুলো চীনের শেনঝেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বেসেন্ট জানান, বুসানের বিদ্যমান ব্যবস্থা চালু রাখা কিংবা বড় চুক্তির দিকে যাওয়া, উভয় পথেই হাঁটতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, “আমরা দুটি বিষয়ের জন্যই প্রস্তুত, এবং মার্কিন জনগণের স্বার্থে যা সবচেয়ে ভাল হবে, আমরা তা-ই করব।” সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট এই আলোচনাকে অত্যন্ত ‘সারগর্ভ’ বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে কিছু ‘অমীমাংসিত বিষয়’ মেটাতেই বেইজিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কৌশলগত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।