যেভাবে থাইল্যান্ডের ডে কেয়ার সেন্টারে হামলা চালানো হয়

থাইল্যান্ডে একটি ডে কেয়ার সেন্টারে হামলা চালানো সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার বিচার চলছিল। ঘটনার দিনও মামলার শুনানি ছিল এবং তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Oct 2022, 03:45 PM
Updated : 6 Oct 2022, 03:45 PM

থাইল্যান্ডে মাদকাসক্ত একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা তার বাড়ির কাছে প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের একটি ডে কেয়ার সেন্টারে একটি ছুরি, একটি পিস্তল ও একটি শটগান হাতে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তাতে ২২টি ছোট্ট ছোট্ট শিশুসহ ঝরে গেছে ৩৭টি তাজা প্রাণ।

হামলাকারী ৩৪ বছর বয়সের পানিয়া খামরাব থাই পুলিশের লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে ছিলেন বলে জানায় বিবিসি।

থাইল্যান্ডের উত্তরপূবাঞ্চলীয় নং বুয়া লামফু প্রদেশের উথাই সাওয়ান শহরের বাসিন্দা পানিয়া বৃহস্পতিবার তার বাড়ির কাছের যে ডে কেয়ার সেন্টারটিতে ছুরি, পিস্তল ও শটগান হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সেটির নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল তার ছোট্ট ছেলেটিও। পানিয়াই ছেলেকে বেশিরভাগ সময় ওই ডে কেয়ার সেন্টারে দিয়ে আসতেন।

পুলিশের বিশ্বাস, ডে কেয়ার সেন্টারে হামলার আগে পানিয়া অ্যামফিটামিন নামে একটি মাদক গ্রহণ করেছিলেন।

পানিয়ার কাছে মেথামফিটামিন মাদক পাওয়া যাওয়ায় গত জানুয়ারি মাসে তাকে পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতে মাদকের মামলা চলছিল এবং ডে কেয়ার সেন্টারে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি ওই মামলার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে থাই পুলিশ। শুক্রবার তার বিরুদ্ধে হওয়ার মামলার রায় দেওয়ার কথা ছিল।

পুলিশের বর্ণনায় উঠে এসেছে কীভাবে পানিয়া বৃহস্পতিবার ডে কেয়ার সেন্টারটিতে হামলা চালিয়েছিলেন।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে পানিয়া ওই ডে কেয়ার সেন্টারটিতে যান। ওই সময়ে সেখানকার শিশুরা দুপুরের ঘুমে ছিল।

পানিয়ার কাছে একটি ছুরি, একটি নাইনএমএম পিস্তল এবং একটি শটগান ছিল। তিনি ডে কেয়ার সেন্টারে যাওয়ার পরপরই এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া শুরু করেন। কয়েকজন শিক্ষক এবং অভিভাবক তাকে ভবনের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।

ডে কেয়ার সেন্টার থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পানিয়া পথে বেশ কয়েকজন পথচারীর উপর গাড়ি তুলে দেন এবং তাদের গুলি করেন। তারপর বাড়িতে ফিরে স্ত্রী ও সন্তানকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডে কেয়ার সেন্টারটির ভেতরে এবং বাইরে শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে।

Also Read: থাইল্যান্ডে হামলা: হামলাকারীর পিস্তলটি বৈধ ছিল

Also Read: থাইল্যান্ডে ডে কেয়ার সেন্টারে গুলি: নিহত বেড়ে ৩৮

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, হামলার সময় ডে কেয়ার সেন্টারটিতে ৩০টির মত শিশু ছিল। অন্যান্য দিনের তুলনায় যা বেশ কম। বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় ভারি বৃষ্টি হওয়ায় অনেকে সেদিন শিশুদের সেখানে পাঠাননি।

কাছের একটি অফিসের কর্মকর্তা জিদাপা বুনসোম হামলার সময় ডে কেয়ার সেন্টারটির কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘‘হামলাকারী দুপুরের খাবারের সময় ডে কেয়ার সেন্টারে আসে এবং প্রথমে সেখানকার চার/পাঁচজন কর্মকর্তাকে গুলি করেন।

‘‘আশেপাশের লোকজন প্রথমে ভেবেছিল কেউ পটকা ফাটাচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক ছিল। গুলি চলছে বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছুটে পালিয়ে লুকিয়ে পড়ি। অনেক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। আমি জীবনে কখনো এ ধরনের ঘটনা দেখিনি।”

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক