হুতি লক্ষ্যবস্তুতে ৪৭৪ হামলার দাবি ইয়েমেনের, বড় অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির
এ অভিযানে মার্কিন বা ইউরোপীয় বাহিনী সরাসরি অংশ না নিলেও রিয়াদকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে ওয়াশিংটন।
ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি হামলা চালানোর কথা দাবি করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী।
আনাদোলু এজেন্সি লিখেছে, এসব হামলায় ১,৫৪০ জন হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি।
তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে হুতির বিভিন্ন অবস্থান, চলাচল, শক্তিবৃদ্ধি ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এসব অভিযান।
বিশেষ করে তাইজ ফ্রন্ট ছাড়াও হারাদ, কিটাফ, আল-জাউফ, মারিব, আল-বায়দা, লাহজ, সানা ও সায়াদায় এ হামলা পরিচালিত হয়।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের ভাষ্য, এ অভিযানের ফলে তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া গেছে এবং তাদের বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাও নস্যাৎ হয়ে গেছে।
এর আগে গত বুধবারও তিনটি রণাঙ্গণে ৪৬৮টি অভিযান চালিয়ে শত শত হুতি সদস্যকে হতাহত করার দাবি করেছিল ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী।
এদিকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করতে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১ লাখেরও বেশি ইয়েমেনি সেনা নিয়ে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালি হুতিদের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরব।
রিয়াদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযানে অন্তত ১ লাখ ইয়েমেনি সেনা অংশ নিতে পারে, যাদের আকাশ থেকে সরাসরি বোমারু সহায়তা দেবে সৌদি বিমানবাহিনী।
আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রে রয়টার্স লিখেছে, এ অভিযানের জন্য দুটি কৌশল বিবেচনা করছে রিয়াদ।
একটিতে কেবল বাব আল-মানদেব উপকূলীয় অঞ্চলকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হবে; অন্যটিতে আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাউফসহ বেশ কয়েকটি রণাঙ্গণে একযোগে সমন্বিত অভিযান চালানো হবে।
এ অভিযানে মার্কিন বা ইউরোপীয় বাহিনী সরাসরি অংশ না নিলেও রিয়াদকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে ওয়াশিংটন।
২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে। এরপর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বাসিত করতে পরের বছর সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ইরান যুদ্ধের আঁচ এসে পড়ে লোহিত সাগরে।
চলতি বছর থেকে সৌদি জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়তে থাকায় নতুন করে সংঘাত তীব্র রূপ নেয়।
সবশেষ গত মাসে হুতি বাহিনী উপকূলীয় এলাকা ধরে অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরই মূলত এই সর্বাত্মক অভিযানের রূপরেখা চূড়ান্ত করে রিয়াদ।
তবে প্রস্তাবিত এই অভিযানের বিষয়ে সৌদি বা ইয়েমেন সরকার, হুতি গোষ্ঠী কিংবা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
