Published : 22 Aug 2025, 02:19 AM
একটি শান্তি চুক্তির অংশ হিসাবে ইউক্রেইনের সুরক্ষায় সেখানে শান্তিরক্ষী পাঠানো নিয়ে মিত্রদেশগুলোর আলোচনায় জার্মানিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নাৎসি অতীতের স্মৃতি, আফগানিস্তান ও মালি অভিযানের ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটিতে ইউক্রেইনের মাটিতে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস ইউক্রেইনে সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী মিশনে জার্মান সেনা পাঠানোর দ্বার খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বলেছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ইউরোপীয় অংশীদার ও নিজস্ব জোটের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়বে।
তাছাড়া, যে কোনও সেনা মোতায়েনের জন্য জার্মানির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্ডেস্টাগেরও অনুমোদন লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে এমন একটি বিষয় এমনকি মাথায় রাখার জন্যও ম্যার্ৎসের দলের কড়া সমালোচনা করেছেন ডানপন্থি ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) দলের নেতা এলিস ওয়েইডেল।
তিনি ম্যার্ৎসের দলকে “যুদ্ধোন্মাদ” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, স্থলসেনা পাঠানোর চিন্তা করাটাও “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।”
ফ্রিডরিশ ম্যারৎসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইওহান ভাদেফুলও সতর্ক করে বলেছেন, "সেনা পাঠানো জার্মানির জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।"
দেশটির নীতিনির্ধারকদের অনেকেই উদ্বিগ্ন যে, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সেনাবাহিনীকে এমন অভিযানে পাঠালে তা জার্মানিকে সরাসরি পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
জার্মানি এখনও নাৎসি অতীতের ক্ষতচিহ্ন কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আফগানিস্তান ও মালিতে দেশটির সাম্প্রতিক সেনা মোতায়েনকেও ব্যাপকভাবে ব্যর্থ বলেই গণ্য করা হয়। তার ওপর অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে ইউক্রেইনের জন্য সামরিক সহায়তা হিসাবে শত শত কোটি ইউরো ব্যয় নিয়েও জনমনে অসন্তোষ আছে।
তাই ইউক্রেইনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। জার্মানির জরিপ কোম্পানি ফোর্সা ইন্সটিটিউট এর জরিপমতে, ৪৯ শতাংশ জার্মান শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সেনা পাঠানোর পক্ষে, আর ৪৫ শতাংশ বিপক্ষে। পূর্ব জার্মানিতে বিরোধিতাই বেশি, যেখানে আগামী বছর কয়েকটি আঞ্চলিক নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস এরই মধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, শত শত কোটি ইউরো নতুন ঋণ নিয়ে তিনি জার্মান সেনাবাহিনীকে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করবেন। তবে দলীয় জনপ্রিয়তা হ্রাস আর এএফডি-র উত্থান তার জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইউক্রেইনে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে ম্যার্ৎস সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত উত্তর দেওয়া খুব বেশি তাড়াহুড়া হয়ে যাবে।”