Published : 03 Sep 2026, 11:13 PM
‘ব্রেস্ট ক্যান্সার নাও’ নামের স্তন ক্যানসার দাতব্য সংস্থার প্রায় ৯২,০০০ পাউন্ড নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের অভিযোগে ওই সংস্থার সাবেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অর্থকর্মী তামিম চৌধুরিকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে লন্ডনের রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিস।
হাতিয়ে নেওয়া ক্যান্সার দাতব্য সংস্থার ওই অর্থ তামিম তার ব্যক্তিগত দেনা শোধ করা, ভ্রমণ, বিয়ের খরচ মেটোনো এবং বিলাসবহুল জিনিস কেনাকাটার পেছনে ব্যয় করেছিলেন।
২৯ বছর বয়সী তামিম চৌধুরি প্রতারণা ও অর্থ আত্মস্যাতের অপরাধ স্বীকার করার পর গত ১ সেপ্টেম্বর রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিস তার সাজা ঘোষণা করে।
তামিম যুক্তরাজ্যের স্তন ক্যানসার গবেষণার শীর্ষস্থানীয় দাতব্য সংস্থা ‘ব্রেস্ট ক্যানসার নাও’ -এর ফিন্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দাতব্য সংস্থার অর্থ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থেকেও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন।
২০২৩ সালের অগাস্টে এনএইচএস বা 'দ্য রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট' থেকে দাতব্য সংস্থাটির পাওয়ার কথা ছিল এমন প্রায় ৯১,৯৬৬ পাউন্ডের একটি রিফান্ড পেমেন্ট তামিম আটকে দেন।
তিনি দাতব্য সংস্থার অফিশিয়াল প্যাড ব্যবহার করে এবং নিজের করপোরেট ইমেইল থেকে এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের ভুয়া তথ্য পাঠিয়ে ওই তহবিল দাতব্য সংস্থার অ্যাকাউন্টের বদলে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিয়ে নেন।
অর্থ পাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি তা ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, কাতার ভ্রমণের জন্য টিকিট কাটা, আত্মীয়দের অর্থ পাঠানো এবং নিজের বিলাসবহুল বিয়ে ও হানিমুনের পেছনে খরচ করেন। এমনকি তিনি এই চুরি করা অর্থ দিয়ে তিনি ১৪,০০০ পাউন্ড মূল্যের একটি আলেকজান্ডার ব্রাউন ওয়েডিং রিংও কিনেছিলেন।
তার ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়লে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে এবং সেখান থেকে ৪২,৮৬৬ পাউন্ড উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে দাতব্য সংস্থা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানালে ২০২৫ সালের জুন মাসে তামিমকে গ্রেপ্তার করে লন্ডন পুলিশ।
তদন্তে তামিমের ফোনে কিছু বার্তাও পাওয়া গেছে, যেখানে তিনি অর্থ হাতে পাওয়ার আগ মুহূর্তে নিজেকে প্রায় নিঃস্ব বলে বর্ণনা করেছিলেন।
সিটি অব লন্ডন পুলিশের প্রতারণা দমন দল বলেছে, “তামিম এমন একটি দাতব্য সংস্থায় তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, যা জীবন রক্ষাকারী স্তন ক্যানসার গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহে নিবেদিত ছিল।
“দাতাদের উদারতা ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার নাও’-এর মতো দাতব্য সংস্থাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় সহায়তা করতে এবং স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের সাহায্য দিতে সহায়ক হয়। তামিমের কার্যকলাপ ছিল সেই বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দাতব্য তহবিলকে ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন।
“এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, একটি সংস্থার ভেতর থেকেই এমন ব্যক্তিরা প্রতারণা করতে পারে, যাদেরকে বিশ্বাস করে সংস্থার আর্থিক সুরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমরা ভুক্তভোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে যাব, যাতে অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়, যেখানে সম্ভব চুরি হওয়া তহবিল পুনরুদ্ধার করা যায় এবং দায়ীদের আদালতের মুখোমুখি করা যায়।"
দাতব্য সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং প্রতারণার ঘটনার পর তাদের অভ্যন্তরীন কার্যপদ্ধতি পর্যালোচনা করেছে।