এভারেস্টে তুষারঝড়, আটকা পড়া হাজারো মানুষের কয়েকশ জনকে উদ্ধার
পর্বতারোহী ডা. বাবর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে যারা ট্রেক করতে যান, প্রায় সবাই নেপালের অংশেই যান। আমার জানা মতে, এই তুষার ঝড়ে বাংলাদেশি কোন পর্বতারোহী আটকা পড়েননি।
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের প্রত্যন্ত তিব্বত অংশের ঢালে ভয়াবহ তুষারঝড় কবলিত হয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ আটকা পড়ার পর তাদের কয়েকশ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। পর্বতটির পূর্ব ঢালের কাছে অবস্থিত ক্যাম্পগুলোতে হাজারখানেক মানুষ আটকা পড়েছিলেন।
গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল তুষারপাত শনিবার সারাদিন অব্যাহত ছিল। এতে ৪ হাজার ৯০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এলাকাটির পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় পর্যটক, কর্মী ও পর্বতারোহী মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ সেখানে আটকা পড়েন।
শত শত স্থানীয় গ্রামবাসী ও উদ্ধারকর্মীকে রাস্তা থেকে বরফ সরানোর কাজে নিয়োজিত করা হয়, যাতে আটকা পড়াদের কাছে পৌঁছানো যায়।
চীনা গণমাধ্যম কয়েকজন পর্যটককে উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে। চীনের সেন্ট্রাল টিভি জানায়, রোববার পর্যন্ত ৩৫০ জন পর্বতারোহীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা কুডং শহরে পৌঁছেছেন।
আরও বাদবাকি ২০০ জনের বেশি পর্বতারোহীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় ধাপে ধাপে কুডং শহরে পৌঁছবেন বলে জানানো হয়েছে সিসিটিভি’র খবরে।
শনিবার রাত থেকে স্থানীয় টিংরি কাউন্টি ট্যুরিজম কোম্পানি এভারেস্ট ভ্রমণের টিকিট বিক্রি ও প্রবেশ বন্ধ রেখেছে।
এভারেস্ট জয়ী বাংলাদেশি পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, এটা মূলত তিব্বতের দিকে হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যারা ট্রেক করতে যান, প্রায় সবাই নেপালের অংশেই যান। আমার জানা মতে, এই তুষার ঝড়ে বাংলাদেশি কোন পর্বতারোহী আটকা পড়েননি।
এদিকে তিব্বতের দক্ষিণের দেশ নেপালে ভারি বৃষ্টিতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক সড়কপথ বন্ধ হয়ে গেছে। গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
