জাতিসংঘের বহুপাক্ষিকতার সমর্থনে নতুন জোট পি৪এমের উদ্বোধনে যোগ দিচ্ছে ভারত
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রাজিল, কেনিয়া ও কানাডার নেতাদের উদ্যোগে নতুন জোট ‘পি৪এম’ গঠিত হচ্ছে।
বৈশ্বিক পরাশক্তি বা ‘সুপারপাওয়ার’ রাজনীতির বাইরে গিয়ে জাতিসংঘের বহুপাক্ষিকতা নীতি সমর্থনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর জোট ‘পার্টনার্স ফর মাল্টিল্যাটারালিজম’ (পি৪এম) এর উদ্বোধনে যোগ দিচ্ছে ভারত।
যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধনে যোগ দেবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু মঙ্গলবার এক খবরে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রাজিল, কেনিয়া ও কানাডার নেতাদের উদ্যোগে গঠিত জোট ‘পি৪এম’ চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাদের আত্মপ্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ব নেতাদের অংশগ্রহণে নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। পুরো সপ্তাহজুড়ে অধিবেশনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জয়শঙ্কর। আগামী শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতাও দেবেন তিনি। এর আগে নিউ ইয়র্ক সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পি৪এমের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন তিনি। এই অধিবেশনটির পরপরই একটি সংবাদ সম্মেলন হবে।
দ্য হিন্দু বলছে, পি৪এম উদ্যোগে ভারতকে যোগ দিতে বলা হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। ভারত ইতিমধ্যে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন ন্যাম, ব্রিকস, জি-২০ এবং জি-৪ এর মত বেশ কয়েকটি উদ্যোগের অংশ, যেগুলোর উদ্দেশ্য প্রায় একই রকম।
নতুন এই জোট প্রসঙ্গে এক যৌথ নিবন্ধে পি৪এম নেতারা বলেন, “এই জোট জাতিসংঘকে সমর্থন করবে। একইসঙ্গে পি৪এম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল রূপান্তরসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক ও প্রস্তুত করতে কাজ করে যাবে। এছাড়া পি৪এম জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, কার্যকর এবং বিশ্বস্ত করে তোলার জন্য সংস্কারেও সমর্থন দেবে।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত ওই যৌথ নিবন্ধের লেখকরা হলেন- ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মাঝারি শক্তির দেশগুলোর একত্রিত হওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন কার্নি। তার এ বক্তব্য বিভিন্ন একতরফা পদক্ষেপ এবং যুদ্ধের জন্য রাশিয়া ও চীনের প্রতি অসন্তোষই প্রকাশ করে। তেমনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি, সাম্রাজ্যবাদী নীতি এবং ইরানে চলমান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান ক্ষোভেরও ইঙ্গিত দেয়।
সোমবারে প্রকাশিত যৌথ নিবন্ধটিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতিয়েরেসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, “পরাশক্তিগুলো তাদের সীমানা বা সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করতে পারছে। পি৪এম জোট বিশ্বাস করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত যৌথ বা সম্মিলিত উদ্যোগের অসাধারণ সম্ভাবনাকে আবার আবিষ্কার করা।”
যৌথ নিবন্ধে দাবি করা হয়, পি৪এম জোট বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো ‘আন্তর্জাতিক আমলাতন্ত্র’ তৈরি করবে না। বরং এ জোট বিভিন্ন অঞ্চল ও রাজনৈতিক পটভূমির দেশগুলোর জন্য একটি নমনীয়, উন্মুক্ত কাঠামো তৈরি করে বিভাজন ভুলে কাজ করতে, সংস্কারের জন্য জোট তৈরি করতে এবং যৌথ নীতিগুলোকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপে রূপান্তর করতে ইচ্ছুক।
