রেকর্ড ভাঙা দৈনিক কোভিড সংক্রমণে নাজেহাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড সংক্রমণ ভেঙে দিয়েছে দৈনিক গড় শনাক্তের পুরনো রেকর্ড। বড়দিনের ছুটিতে ভ্রমণ এবং মানুষের জমায়েতে করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক দুই ধরন ডেল্টা আর ওমিক্রন এই রেকর্ড ভাঙা সংক্রমণের কারণ হয়েছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Dec 2021, 02:25 PM
Updated : 29 Dec 2021, 05:06 PM

যুক্তরাষ্ট্রে ৭ দিনের গড় হিসাবে মঙ্গলবার কোভিডে নতুন শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৫,৪২৭ জনে। এই সংখ্যা ভেঙে দিয়েছে গত ১১ জানুয়ারির রেকর্ড। প্রায় একবছর আগের ওই দিনটিতে ৭ দিনের গড় হিসাবে কোভিডে নতুন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২৫১, ২৩২ জন।

গত মাস থেকে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও ত্বরিত গতিতে কোভিড সংক্রমণের যে ঢেউ শুরু হয়েছে, তাতেই শনাক্তের সংখ্যা ‘নতুন চূড়ায়’ পৌঁছার ওই পরিসংখ্যান দিয়েছে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশেষজ্ঞরা এখন পর্যন্ত ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকেই করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক ধরন বলে ধারণা করছেন এবং এর কারণে ২০২২ সালের শুরুর সময়টি খুবই কঠিন যাবে বলে তারা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের ডিন বলেন, “জানুয়ারি সত্যিই খুব কঠিন একটি মাস হবে। এ মাসে বহু মানুষই আক্রান্ত হবে।” আরেক মার্কিন চিকিৎসা বিষয়ক বিশ্লেষক সিএনএন-কে বলেন, জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে দিনেই ৫ লাখ মানুষ কোভিড আক্রান্ত হতে পারে।

ডেল্টা এবং ওমিক্রনের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে হাসপাতালগুলোতে স্টাফ কমেছে। তার মধ্যে আবার হাসপাতালে রোগী ভর্তিও বাড়ছে; যা গড় হিসেবে দৈনিক ৭১ হাজারের বেশি। তবে এটি এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনেক নিচে রয়েছে।

কারণ, গত জানুয়ারির তুলনায় এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৬২ শতাংশ মানুষকে সম্পূর্ণভাবে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া, বর্তমান সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু গবেষণায় ফল অনুযায়ী, অন্যান্য যে কোনও ভ্যারিয়ান্টের তুলনায় ওমিক্রন আক্রান্তদের উপসর্গ মৃদু থাকে এবং বুস্টার ডোজের কারণে মানুষের অসুস্থতা মারাত্মক আকার ধারণ করে না। ফলে মৃত্যুও কম হয়।

তারপরও টিকা নেওয়া মানুষেরা ডেল্টার তুলনায় ওমিক্রনে অনেক সহজেই আক্রান্ত হওয়ার কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে হাসপাতাল কর্মীরা নিজেরাই বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্নের ঝুঁকি আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখনও রোগীদের বড় একটি অংশ ভয়ানক ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত। গত মঙ্গলবার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের মধ্যে ওমিক্রন সংক্রমিতের হার আশঙ্কার চেয়ে কমে ৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

তাছাড়া, গত ১৮ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে সংস্থাটি ওমিক্রণ সংক্রমণের ৭৩ শতাংশের যে হিসাব দিয়েছিল তা সংশোধন করে প্রায় ২৩ শতাংশ করেছে। যার অর্থ দাঁড়ায়, এ সপ্তাহ পর্যন্ত ডেল্টা ধরনই আধিপত্য বিস্তার করেছে।

ওদিকে, ওমিক্রনও নিঃসন্দেহেই দাপুটে হয়ে উঠছে। তবে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট প্রভাবশালী হয়ে ওঠাটা একদিক দিয়ে একটি সুখবর। কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠছে, তারা পরবর্তীতে ডেল্টা সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম হয়ে উঠতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলগুলোতে ওমিক্রন বিশেষভাবে বিস্তার লাভ করছে। গত সোমবার ওয়াশিংটন, মেরিল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়ায় দৈনিক ভাইরাস সংক্রমণের পরিসংখ্যান আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

মেরিল্যান্ডের স্কুল অব পাবলিক হেলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য নীতির সহকারী অধ্যাপক নীল জে সেহগাল বলেন, “দেশের বাকি অংশে কী ঘটতে পারে তা আমরা ডিসিকে (ওয়াশিংটন) দেখে অনুমান করতে পারি।

“আগামী মাসে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে ওমিক্রনের নতুন ঢেউ পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপের দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে” বলে সতর্ক করেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক