পুলিশের নিপীড়নে কৃষ্ণাঙ্গর মৃত্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পুলিশের নিপীড়নে এক কৃষ্ণাঙ্গর মৃত্যুকে ঘিরে অন্তত তিনটি বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 May 2020, 01:04 PM
Updated : 28 May 2020, 01:04 PM

প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় মিনিয়াপোলিসে এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের ওই কৃষ্ণাঙ্গর মৃত্যু পর মঙাগলবার বিকাল থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। বুধবারও মিনিয়াপোলিসে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ছোড়ে। পুলিশের দিকে পাল্টা পাথর ছুড়ে বিক্ষোভকারীরাও। বৃহস্পতিবার সকালে একটি বিক্ষোভস্থলের কাছে পুলিশ এক ব্যক্তিকে গুলি করা এবং একজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে।

সিএনএন জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসে শত শত মানুষ ফ্লয়েডের মৃত্যু এবং পুলিশের নৃশংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে। টেনেসির মেপফিসেও দেখা গেছে একই চিত্র। সেখানে আটক হয়েছে দুইজন।

৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে। এতে দেখা গেছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হাঁটু দিয়ে ফ্লয়েডের ঘাড় চেপে ধরার পর তিনি বলছেন, “আমি শ্বাস নিতে পারছি না।”

দমবন্ধ হয়ে ফ্লয়েডের মারা যাওয়ার এ ঘটনায় মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ থেকে চার পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

নিহত ফ্লয়েডের পরিবার চাইছে, চার পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হোক। মিনিয়াপোলিসের মেয়রও কৌসুলিদেরকে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করতে বলেছেন।

ফ্লয়েডের মারা যাওয়ার জায়গাটির কাছেই মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা মুখে মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জড়ো হয়। ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না,’ ‘এটি আমিও হতে পারতাম’ স্লোগানে বিক্ষোভ করে তারা।

শত শত বিক্ষোভকারী পুলিশ কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ করেছে। বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে মিনেসোটার গভর্নর জানান, পরিস্থিতি খুবই ভয়ঙ্কর। তিনি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

পুলিশের ভাষ্য, ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে সোমবার ঘটনাস্থলে যান পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা ফ্লয়েডকে গাড়ি থেকে নেমে সরে যেতে বললে তিনি কর্মকর্তাদেরকে বাধা দেন এবং গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন। পরে কর্মকর্তারা তাকে হাতকড়া পরাতে পেরেছিলেন।

পুলিশের সঙ্গে ফ্লয়েডের সংঘাত বাধল কিভাবে তা ভিডিওতে দেখা যায়নি। এতে কেবল দেখা গেছে এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডকে ঘাড়ের ওপর হাটু দিয়ে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন।

ফ্লয়েড বলছেন, “প্লিজ, আমি শ্বাস নিতে পারছি না”, “আমাকে মারবেন না।” এক পথচারীকে সে সময় ফ্লয়েডকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করতে দেখা গেছে।

পরে ঘটনাস্থলে একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে ফ্লয়েডকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক