ক্রাইমিয়ায় জঙ্গি সেল ‘নিস্ক্রিয়’ করার দাবি রাশিয়ার

রুশ নিয়ন্ত্রিত ক্রাইমিয়া একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠার পরদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ইসলামি গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী সেল ধ্বংসের কথা জানালেন উপদ্বীপটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

রয়টার্স
Published : 17 August 2022, 01:57 PM
Updated : 17 August 2022, 01:57 PM

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রাইমিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা সের্গেই আকসিওনভ বলেছেন, রুশ নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ইসলামি গোষ্ঠীর ছয় সদস্যের সন্ত্রাসী সেল গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

একাধিক বিস্ফোরণে কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত উপদ্বীপটি কেঁপে ওঠার পরদিন তিনি এ কথা বললেন।

“সবাইকে আটক করা হয়েছে। যেমনটা অনুমান করা হচ্ছিল, এই সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছিল সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইউক্রেইনের ভূখণ্ড থেকে,” টেলিগ্রামে এমনটাই বলেছেন আকসিওনভ।

এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে ইউক্রেইনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়া ক্রাইমিয়া ফিরে পেতে উন্মুখ কিইভ; বিনা উসকানিতে সাম্রাজ্যবাদী তরিকায় জমি দখলে মস্কো তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে বলেও ছয় মাস ধরে অভিযোগও করছে তারা।

আকসিওনভ জানান, যে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে, তারা কট্টরপন্থি হিজবুত তাহরিরের সদস্য, সংগঠনটি রাশিয়ায় নিষিদ্ধ।

মঙ্গলবার ক্রাইমিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ডিঝেনকোই ঘাঁটি এবং কয়েকদিন আগে ক্রাইমিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আরেকটি সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের সঙ্গে আটক এ সন্দেহভাজনদের কোনও যোগ আছে কিনা, এফএসবির বিবৃতিতে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

যদিও তাদের প্রতিবেদনে ডিঝেনকোই এবং এর পাশাপাশি ইয়াল্টা শহরে সন্ত্রাসীদের ওই সেল নিস্ক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার রুশ কর্তৃপক্ষ ডেঝেনকোইতে বিস্ফোরণের জন্য ‘নাশকতাকারীদের’ দায়ী করেছিল। এফএসবি জানিয়েছে, জঙ্গি এ সেলটি স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

রাশিয়া ইউক্রেইনে তাদের ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর পর এই কিছুদিন আগ পর্যন্তও ক্রাইমিয়াকে ‘তুলনামূলক নিরাপদ’ অঞ্চল বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেখানকার ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা রুশ কর্মকর্তাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।

বিস্ফোরণের খবরে উল্লসিত হলেও ইউক্রেইন ঘাঁটিগুলোতে ‘হামলার’ দায় স্বীকার করেনি।

তবে ইউক্রেইন সমর্থিত গোষ্ঠী কিংবা বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা শত্রুদের লাইনের পেছনে থেকে এসব ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারণা সমর বিশ্লেষকদের।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক