৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কারিগরি পর্যায়ে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে বৈঠক অব্যাহত: জয়সওয়াল

যৌথ নদী কমিশনে এসব নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 12:43 AM

Updated : 30 Sep 2026, 12:43 AM

মেয়াদ শেষ হতে চলা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কারিগরি স্তরে বৈঠক অব্যাহত আছে বলছে নয়া দিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার তাদের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন।

প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সাবেক সভাপতি ও ফেডারেশন অব প্রেস ক্লাবসে সভাপতির গৌতম লাহিড়ীর প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের পানিসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, তারা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন চান না, বরং চুক্তিটি পর্যালোচনা করে নতুনভাবে দেখতে চান। এ বিষয়ে তিনি ভারতের মত জানতে চান।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ অন্যান্য নদীর পানিবণ্টন বিষয়ে সব কিছু ওই কমিশনেই আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নিয়েও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও চলমান রয়েছে।”

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “নবায়ন নয়, গঙ্গা পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ। নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখার পাশাপাশি দেশের স্বার্থের কথা ভাবে হবে।”

তার আগে গত জুলাইতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছিলেন, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন করা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত এর গুরুত্ব মাথায় রাখবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

তিনি বলেন, “গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হচ্ছে, সব আলোচনা তো দৃশ্যমান নয়, আলোচনা তো চলতে থাকে। যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হচ্ছে, সে আলোচনায় আমি বিশ্বাস করি, গঙ্গা চুক্তির গুরুত্বটা এবং গঙ্গার পানির গুরুত্বটা ভারত বুঝতে পারে এবং সেটা বিবেচনায় রেখে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটাকে যেন কোনো রকমভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখেই ভারত সিদ্ধান্ত নিবে।”

গঙ্গার পানি বণ্টনে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে ৩০ বছরের চুক্তি করে। সমঝোতা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা থেকে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন করা হয়ে থাকে।

৪০ বছরের গড় মাত্রা অনুযায়ী ভারত পানির ভাগ পায়। যে কোনো সংকটের সময় বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি সরবরাহ করার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরের একই তারিখে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে সম্প্রতি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ঢাকা সফর করেছেন বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে সে বিষয়ে রণধীন জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করেন গৌতম লাহিড়ী।

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।