Published : 11 Jun 2025, 09:29 PM
কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি মোবাইল গেম নিষিদ্ধ করেছে হংকং। এই গেমটির অ্যাপ ডাউনলোড বা শেয়ার করলে বাসিন্দাদেরকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
‘রিভার্সড ফ্রন্ট: বনফায়ার’ নামক এই গেমটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়রা এই খেলায় তাইওয়ান, হংকং, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত কিংবা উইঘুর জনগোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে কমিউনিস্ট সরকার উৎখাতের লড়াইয়ে অংশ নিতে পারে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, “গেমটি যারা ডাউনলোড করেছে তাদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অভিপ্রায় থাকা প্রকাশনার অধিকারী হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।”
চীন হংকংয়ের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং হংকংয়ে ২০১৯ সালের ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভের পর থেকেই সেখানে কঠোরভাবে বিরোধী মত দমন করে আসার মধ্যে গেম নিষিদ্ধের এই পদক্ষেপ এল।
গেমটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, এই গেম এ চীনের প্রকৃত সংস্থাগুলোসহ তাদের নীতি বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যে কোনও সাদৃশ্য ইচ্ছাকৃতভাবেই রাখা হয়েছে।
তবে গেমটিতে খেলোয়াড়েরা চাইলেই কমিউনিস্ট বিপ্লবের পক্ষে খেলতে পারে এবং কমিউনিস্ট হিসাবে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের খেলাও খেলতে পারে।
পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইএসসি তাইওয়ানকে তহবিল সহায়তা কেউ যেন না দেয়।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রিভার্সড ফ্রন্ট: বনফায়ার’ গেমটি খেলাচ্ছলে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ ও ‘হংকংয়ের স্বাধীনতা’র মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে।
যারা এই গেমের অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন, তারা যেন তা অবিলম্বে মুছে ফেলেন এবং আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা না করেন।
এপ্রিলে চালু হওয়া এই গেমটি হংকংয়ে একদিন আগেও গুগল প্লে বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছিল। তবে বুধবার থেকে এটি আর গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে নেই।
তবে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাতেই যেন গেমটিতে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। বুধবার হংকংয়ের বাসিন্দারা গুগলে সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে গেমটির নাম।
গেম নির্মাতারাও এই খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞার খবরকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, “এই নিষেধাজ্ঞার ফলে গোটা হংকং আমাদের গেমটি পরিচিতি পেয়েছে।”
২০২০ সালে হংকংয়ে বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করে চীন। সমালোচকরা এই আইনকে ভিন্নমত দমনের পদক্ষেপ বলেই বর্ণনা করেছে।
এ আইনে বিচ্ছিন্নতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ অপরাধ হিসাবে গণ্য। ২০১৯ সালে হংকংয়ে ব্যাপক গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভের পর চীন এই আইন চালু করেছিল।
এর আওতায় মিডিয়া মোগল জিমি লাই ও কর্মী জোশুয়া ওয়াংসহ বহু গণতন্ত্রপন্থিকে গ্রেপ্তার কিংবা কারাবন্দি করা হয়েছে।