১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়ে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি ট্রাম্পের

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী ছয় মাসের জন্য রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়ে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির চুক্তি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Oct 2026, 08:17 PM

Updated : 10 Oct 2026, 08:17 PM

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে নিজেদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়ে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির একটি চুক্তি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার টেলিফোনে পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, রাশিয়া প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে অবিলম্বে ৩ লাখ টন এবং পরবর্তীতে নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন আর ‘তার ঠিক পরেই’ আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে।

ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর অবস্থার ওপর নির্ভর করে ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে’ আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।

মস্কো নিশ্চিত করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তবে রাশিয়া ট্রাম্পের ঘোষিত পরিমাণ বা সরবরাহ সময়সূচি নিশ্চিত করেনি। ক্রেতা, গন্তব্য এবং বাণিজ্যিক শর্তাবলীও প্রকাশ করেনি তারা।

চুক্তি বাস্তবায়নে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী বছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে।

রয়টার্স লিখেছে, যেহেতু ডিজেল বিশ্বব্যাপী কেনাবেচা হয়, তাই রাশিয়ার এই বাড়তি জ্বালানি বাজারে আসলে তা অন্য অঞ্চলের দাম এবং সরবরাহ প্রতিযোগিতাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। যার মধ্যে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোও রয়েছে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ‘উপহার’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সামলোচনা করেছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সতর্ক করে লেখেন, “আমেরিকানদের এই ডিজেলের মূল্য ইউক্রেইনীয়দের রক্ত ও নতুন আতঙ্কের মুখোমুখি হয়ে মেটাতে হবে।”

বিবিসি জানিয়েছে, জ্বালানি বিশ্লেষকরা এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, ইউক্রেইনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ডিজেল উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে মস্কো আদৌ এই পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন বাজারে তেলের রেকর্ড দাম সামলাতেই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।