১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

থাইল্যান্ডে হাতির বিরল যমজ শাবকের জন্ম

৩৬ বছর বয়সী মা হাতি চামচুরি যমজ শাবকের জন্ম দেবে বলে আগে কেউ ধারণা করতে পারেনি।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 03:05 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:08 PM

থাইল্যান্ডে একটি এশিয়ান হাতি বিরল যমজ শাবকের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলছেন হাতি দেখভালকারী মাহুতরা।

বিবিসি জানায়, ৩৬ বছর বয়সী মা হাতি চামচুরি যমজ শাবকের জন্ম দেবে বলে আগে কেউ ধারণা করতে পারেনি।

গত সপ্তাহে শুক্রবার মা হাতিটি প্রথমে একটি পুরুষ শাবকের জন্ম দিলে ‘আয়ুথায়া এলিফ্যান্ট প্যালেস অ্যান্ড রয়্যাল ক্রাল’ পার্কের কর্মীরা ভেবেছিলেন, প্রসব শেষ হয়ে গেছে।

কিন্তু প্রথম শাবকটিকে পরিষ্কার করিয়ে তাকে দাঁড়াতে সাহায্য করার সময় কর্মীরা ধপ করে কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পান। পরে তারা বুঝতে পারেন, চামচুরি আরেকটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয় এই শাবকটি মেয়ে।

এই শাবকের জন্ম মা হাতিকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে। আতঙ্কিত হাতিটি যাতে দ্বিতীয় শাবকের ওপর পা দিয়ে না ফেলে সেজন্য একে ঠেকিয়ে রাখতে তৎপর হয় মাহুতরা। মা হাতিকে সামলাতে গিয়ে আহত হন একজন মাহুত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার নাটকীয় ভিডিও দেখা গেছে। এতে ঘটনাস্থলে হাতি তত্ত্বাবধানকারী মাহুতদের ভিড় দেখা যায়। তারা দ্রুত দ্বিতীয় শাবকটিকে মা হাতির কাছ থেকে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। 

‘সেভ দ্য এলিফ্যান্টস’ নামের একটি গবেষণা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, মাত্র এক শতাংশ ক্ষেত্রে হাতির যমজ শাবকের জন্ম হয়। আর পৃথক লিঙ্গের (ছেলে-মেয়ে) যমজ শাবক জন্মের বিষয়টি আরও বিরল।

থাই পশুচিকিৎসক লার্ডথংটার মিপান বিবিসি-কে বলেন, তারা দ্বিতীয় শাবককে টেনে মা হাতির কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার পরই শাবকটি উঠে দাঁড়ায়। শাবক জন্মের এ ঘটনায় তারা সবাই উল্লাসিত হয়েছেন। কারণ, এ এক অলৌকিক ঘটনা।

মিপান নিজেও যমজ সন্তানের মা। হাতির ওই পার্কেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। মিপান বলেন, “আমরা সবসময়ই হাতির যমজ শাবক দেখতে চেয়েছি। কিন্তু সবাই তা দেখতে পারেন না। কারণ, এমনটি খুব বেশি ঘটে না।”

দ্বিতীয় শাবকের জন্মের পর মা হাতিটিকে সামলাতে গিয়ে পার্কের ৩১ বছর বয়সী মাহুত চারিন সোমওয়াংয়ের পা ভেঙেছে। তবে চারিন বলেন, “যমজ শাবক জন্মের ঘটনায় তিনি এতই খুশি হয়েছিলেন যে, পায়ের ব্যথা পর্যন্ত টের পাননি। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন কতটা আঘাত লেগেছে।”

থাইল্যান্ডে হাতিকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। দেশটির জাতীয় প্রতীকও হাতি।