হান্টের বাজেট ঘোষণা: যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের সামনে কঠিন সময়

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এরইমধ্যে মন্দাভাব দেখা দিতে শুরু করেছে বলে স্বীকার করেছেন জেরেমি হান্ট।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Nov 2022, 05:08 PM
Updated : 17 Nov 2022, 05:08 PM

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কর বাড়িয়ে এবং সরকারি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরে বৃহস্পতিবার নতুন বাজেট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের আমেল যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের উপর যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে এটা প্রয়োজন ছিল।

বৃহস্পতিবার পার্লামন্টে দাঁড়িয়ে বাজেট পরিকল্পনা ঘোষণার সময় হান্ট স্বীকার করে নেন, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এরইমধ্যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে এবং আগামী বছর অর্থনীতি আরো সংকুচিত হবে বলেও আভাস পাওয়া গেছে।

‘‘কিন্তু যুক্তরাজ্যের আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে বেদনাদায়ক এই কর রাজস্ব নীতি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না।

‘‘বিশ্বাসযোগ্যতা আপনাআপনি ফিরে আসবে, এমনটা আমরা ধরে নিতে পারি না। বুধবার পরিসংখ্যান কার্যালয় থেকে মুদ্রাস্ফীতির যে পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে আমাদের অবশ্যই সেটিকে নামিয়ে আনার জন্য নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

হান্ট যে বাজেট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তাতে আরো অধিক মানুষকে তাদের বেসিক আয়ের উপর কর দিতে হবে। নতুন বাজেটে আয়কর প্রদাণের ক্ষেত্রে স্তর বিন্যাস করা হয়েছে এবং উচ্চ করযোগ্য আয়ের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে আরো অধিক মানুষকে এখন উচ্চহারে কর দিতে হবে।

আগে ১২ হাজার ৫৭১ পাউন্ড থেকে ৫০ ‍হাজার ২৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ কর দিতে হতো। নতুন বাজেট পরিকল্পনায় ২০২৮ সাল পর্যন্ত সেটা স্থির করে দেয়া হয়েছে।

আর উচ্চ করহারের ক্ষেত্রে আয়ের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে এক লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ১৪০ পাউন্ড করা হয়েছে।

অর্থাৎ আগে বছরে দেড় লাখ পাউন্ড আয়ে ৪০ শতাংশ হারে আয়কর দিলেও হতো। কিন্তু এখন আয় এক লাখ ২৫ হাজার ১৪০ পাউন্ড ছাড়ালেই ৪৫ শতাংশ হারে দিতে হবে।

তাই আয় যত বাড়বে করের হারও তত বাড়বে।

লভ্যাংশ থেকে আয় ও মুলধনী আয়ের উপর যে কর রেয়াত ছিল সেটাও আগামী দুই বছরের জন্য বাতিল করা হয়েছে।

জাতীয় বীমা এবং উত্তরাধিকার করের ক্ষেত্রেও আরো দুই বছর বাড়িয়ে অর্থাৎ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত স্তর বিন্যাস করে দেয়া হয়েছে।

জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফার উপর কর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া, বৈদ্যুতিক জেনারেটরের উপর নতুন করে অস্থায়ীভাবে ৪৫ শতাংম কর আরোপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন হান্ট।

যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির হার এখন ১১ শতাংশের ওপরে। যা দেশটির অর্থনীতির উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।

তবে শুধু যুক্তরাজ্য নয় বরং পুরো বিশ্বে চরম মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে এবং সব দেশের অর্থনীতি চাপে রয়েছে।

যার তীব্র ধাক্কা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে কতটা পড়বে তা অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির (ওবিআর) পূর্বাভাসে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে করেন হান্ট।

তাই তিনি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে চান। তিনি তার বাজটে আগামী বছর রাজস্ব থেকে এক হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক