Published : 14 Jan 2026, 05:14 PM
লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাকে নিরস্ত্রীকরণ করার জন্য চাপ দেওয়ার প্রচেষ্টার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করেছেন ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এই প্রচেষ্টার ফলে বিশৃঙ্খলা ও সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
বুধবার লেবাননের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রচারিত মন্তব্যের বরাত দিয়ে এমনটি জানিয়েছে রয়টার্স।
২০২৪ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের অবসান হয়। ওই চুক্তিতে দেশে থাকা সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লেবানন। কিন্তু হিজবুল্লাহ বলছে, এই চুক্তি শুধু লেবাননের সর্ব দক্ষিণাঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য যা ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী আর তারা দেশের অন্য অংশে অস্ত্র ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম আরটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক কর্মকর্তা মাহমুদ কুমতি বলেছেন, উত্তরে অস্ত্রের উপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে ‘রাষ্ট্র কর্তৃক সংঘটিত সবচেয়ে বড় অপরাধ’।
কুমতি বলেছেন, “লেবানন সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যে পথ নিয়েছে তা লেবাননকে অস্থিতিশীল, বিশৃঙ্খলা ও সম্ভবত এমনকি গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।”
তবে হিজবুল্লাহকে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত সপ্তাহে লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইসরায়েল সীমান্ত ও লিটানি নদীর মধ্যবর্তী এলাকার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
লেবাননের মন্ত্রিসভা সেনাবাহিনীকে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জানাতে বলেছে, তারা দেশের অন্য অংশে নিরস্ত্রীকরণ কীভাবে এগিয়ে নেবে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আর কোনো আলোচনার আগে অবশ্যই ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যে পাঁচটি পাহাড়ের উপর অবস্থান নিয়ে আছে সেখান থেকে তাদের প্রত্যাহার, লেবাননে প্রায় দৈনিকভিত্তিতে চালানো বিমান হামলা বন্ধ করতে হবে এবং বন্দি লেবাননিদের মুক্তি দিতে হবে।
ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টা পর্যাপ্ত হয়নি। এ নিয়ে তারা লেবাননের নেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। লেবাননের নেতাদের আশঙ্কা, ইসরায়েল হামলা বৃদ্ধি করতে পারে।