১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এপস্টেইন নিয়ে কোনও তথ্য নেই: কংগ্রেস কমিটিতে হাজির হয়ে বললেন হিলারি

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন হাউজ কমিটির সাক্ষ্যে বলেছেন, জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে জানানোর মতো কোনও তথ্য তার কাছে নেই।

এপস্টেইন নিয়ে কোনও তথ্য নেই: কংগ্রেস কমিটিতে হাজির হয়ে বললেন হিলারি
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Feb 2026, 12:04 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:02 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধ নিয়ে তদন্ত করা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে বৃহস্পতিবার হাজির হয়েছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

এ সময় তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করা বা কথা বলার বিষয়টি তিনি মনে করতে পারছেন না। আর এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে জানানোর মতো কোনও তথ্য তার কাছে নেই।

হাউজ ওভারসাইট কমিটিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিলারি বলেন, “আমি কখনও এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ করিনি কিংবা তার দ্বীপ, বাড়ি বা অফিসে যাইনি। আমার এখানে আর কিছু বলার নেই।” নিউ ইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় রুদ্ধদ্বার কক্ষে হিলারি জবানবন্দি দেওয়ার শুরুতে এই বিবৃতি দেন। 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই ফার্স্ট লেডি এবং তার স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হাউজ ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং তাদেরকে কমিটিতে তলব করাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

তবে পরে তারা সাক্ষ্য দিতে রাজি হন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের কংগ্রেস ‘অবমাননার’ দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কাটল।

আগামী শুক্রবার বিল ক্লিনটনেরও আলাদাভাবে হাউজ ওভারসাইট কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর তিনি হবেন প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি কংগ্রেসের কোনও প্যানেলের সামনে সাক্ষ্য দেবেন।

গত সপ্তাহে জার্মানির বার্লিনে বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন এই জবানবন্দিকে রিপাবলিকানদের একটি ‘চাল’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমরা এই ফাইলগুলো পুরোপুরি প্রকাশের দাবি জানিয়েছি। আমরা মনে করি সূর্যালোকই হল সবচেয়ে ভালো জীবাণুনাশক।”

হিলারি জানান, তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা না করলেও তার দণ্ডিত সহযোগী গিশলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে কয়েকবার দেখা করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে নিউ ইয়র্কে এই দম্পতির মেয়ে চেলসি ক্লিনটনের বিয়েতে ম্যাক্সওয়েল উপস্থিত ছিলেন।

ক্লিনটন দম্পতি এই তদন্তের পেছনে রিপাবলিকান নেতা জেমস কোমারের ‘দলীয় রাজনীতি’ দেখছেন। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিব্রত করতেই তাদেরকে তলবনামা পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইনকে নিয়ে তদন্তে পাওয়া যেসব নথি ও ছবি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে, সেখানে বিল ক্লিনটনের নাম ও ছবি উঠে এসেছে। এসব ফাইলে আরও অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম রয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নথিতে নাম থাকলেই কেউ অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হন না, যেমনটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্য গ্রহণ রুদ্ধদ্বার কক্ষে হলেও তারা এই সাক্ষ্য জনসমক্ষে নেওয়ার পক্ষে, যাতে সাক্ষ্যের নির্দিষ্ট কোনও অংশ গণমাধ্যমে ফাঁস হতে না পারে।