১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান: সামরিক শক্তিতে কে কতটা বলীয়ান?

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত বাড়তে থাকার মধ্যে উঠে আসছে দুই পক্ষের সামরিক শক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ।

পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান: সামরিক শক্তিতে কে কতটা বলীয়ান?
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত ক্রসিংয়ের রাস্তায় পুলিশ প্রহরা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Feb 2026, 07:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:02 PM

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত রাতারাতি তীব্রতর রূপ নিয়েছে। উভয় পক্ষই ভারী ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ প্রতিবেশীর সঙ্গে 'উন্মুক্ত যুদ্ধে' লিপ্ত।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নঙ্গরহর এবং পকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।

এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।

শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ জানান, আফগান সীমান্তে শুরু হওয়া সেনা অভিযান তালিবানের বিরুদ্ধে পূর্ণ যুদ্ধ।  তিনি বলেন, “আমাদের ধৈর্য ফুরিয়ে গেছে। এখন সরাসরি যুদ্ধের সময়।”

ওদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশের বাহিনী তালেবানকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত এবং সক্ষমও। এই পরিস্থিতিতে উঠে আসছে লড়াইয়ে নামা দুই পক্ষের সামরিক শক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ। 

দুই দেশের লড়াইয়ে উত্তেজনার মাঝে লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (আইআইএসএস)-এর তথ্য বলছে, সামরিক শক্তি ও অস্ত্রভাণ্ডারের দিক থেকে পাকিস্তানের তুলনায় আফগানিস্তানের অবস্থান দুর্বল। 

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার চীনের আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত এবং তারা নিয়মিত নৌ ও বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়ন করছে। সামরিক বাহিনীর পারমাণবিক কর্মসূচিতেও ইসলামাবাদ বিনিয়োগ করে আসছে।

 অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবানের সশস্ত্র বাহিনীর অবনতি হচ্ছে। তালেবান ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের সময় যেসব বিদেশি সরঞ্জাম জব্দ করেছিল, সেগুলো ঠিকমত ব্যবহারের সক্ষমতা তাদের নেই।

তাছাড়া, তালেবান প্রশাসন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণেও তা তাদের সামরিক অস্ত্র আধুনিকায়নে বড় বাধা হয়ে আছে। 

সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা:

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বর্তমানে ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে আছে ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য, বিমান বাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌ বাহিনীতে ৩০ হাজার সদস্য।

অন্যদিকে, আফগান তালেবান সেনাবাহিনীতে এ সংখ্যা অনেক কম। তাদের সক্রিয় সেনা সদস্য সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার। তবে তারা এই সংখ্যা ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

যুদ্ধযান ও কামান:

পাকিস্তানের ৬ হাজারেরও বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০-র বেশি কামান রয়েছে। 

আফগান তালেবান বাহিনীরও সাঁজোয়া যান, সোভিয়েত আমলের ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া পার্সোনেল ক্যারিয়া, পানির নিচের স্বাধীন যান রয়েছে। তবে এগুলোর সঠিক সংখ্যা কত তা জানা যায়নি।

একইভাবে তালেবান বাহিনীর তিন ধরনের কামান থাকলেও সেগুলোর সঠিক সংখ্যা ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই।

বিমানবাহিনী:

আকাশপথের শক্তিতে পাকিস্তান অনেকখানি এগিয়ে। দেশটির বিমানবহরে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টিরও বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে। এর মধ্যে বহুমুখী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম, আক্রমণাত্মক এবং পরিবহন কপ্টারও আছে।

বিপরীতে, আফগানিস্তানের কোনও কার্যকর বিমানবাহিনী বা যুদ্ধবিমান নেই। তাদের কাছে অন্তত ৬টি বিমান আছে বলে জানা যায়, যেগুলোর কয়েকটি সোভিয়েত আমলের। তাদের আরও আছে ২৩ টি হেলিকপ্টার। তবে সেগুলোর কয়টি উড্ডয়নযোগ্য তা মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি।

পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার:

পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং বর্তমানে তাদের কাছে ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কোনও পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার নেই।