Published : 05 Sep 2026, 02:35 PM
ইরানের সুসংরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্র ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ খুব শিগগিরই আঘাত হানা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন গোয়েন্দারা ওই কেন্দ্রের প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর রাখছে এবং সেখানে কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত হলেই হামলা চালানো হবে।
গত ছয় মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তেহরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা করাই ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না। পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের সব জায়গার খবর আমাদের কাছে আছে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানব।”
এনডিটিভি লিখেছে, ইরানের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত এই ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’। পর্বতটির গভীরে দুটি জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা নিয়ে গঠিত এই কমপ্লেক্সটি আকাশপথে বোমা বর্ষণে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলায় চালায়। তার জবাবে পশ্চিম এশিয়ার যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশে হামলা চালায় ইরান।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানির দামে উল্লম্ফন ঘটে। যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে সবশেষ জুনে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সই হয়। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় পাল্টাপাল্টি হামলায়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ অবরোধের পাশাপাশি কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরানের ওপর। এছাড়া আকাশ হামলাও চালানো হচ্ছে।
এর মধ্যেই ডনাল্ড ট্রাম্প পিকঅ্যাক্স পর্বতে হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন।
মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা ইরান তাদের হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ পিকঅ্যাক্স পর্বতের নিরাপদ ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে।
ফলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার সিদ্ধান্ত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর আগে জুলাই মাসে ডনাল্ড ট্রাম্প পিকঅ্যাক্স পর্বত ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন।
মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়াকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে দাবি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করলে ইসরায়েল বা পুরো পশ্চিম এশিয়ার অস্তিত্ব থাকত না এবং তেহরানের পরবর্তী লক্ষ্য হতো ইউরোপ ও আমেরিকার শহরগুলো।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের ওপর আক্রমণের জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা, রেডার, যোগাযোগ কেন্দ্র, নৌ সরঞ্জাম এবং মাইন পুঁতে রাখার সক্ষমতা নিশানা করে জোরদার হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রেডার ধ্বংসের প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তাদের বাহিনী পরপর দুইবার তাদের অত্যাধুনিক রেডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ওই হামলার আগের কয়েক দিন কোনো গোলাগুলি চলছিল না। বারবার ধ্বংস হওয়ার পর ইরান এখন আর নতুন করে রেডার বসাতে সাহস পাচ্ছে না।
অন্যদিকে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরান বলেছে, ওয়াশিংটন তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে একাধিক প্রদেশে বেসামরিক এলাকা ও অসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ‘বিধ্বংসী আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।