Published : 01 Sep 2026, 11:35 AM
পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি ভারতকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে বলে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। পাশাপাশি কাশ্মীর অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও সীমিত করতে বলেছে।
হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত সোমবার এসব আদেশ দিয়েছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
এই চুক্তিটি পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিক্ষেত্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতো। কিন্তু গত বছরের এপ্রিলে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এক পর্যটন গন্তব্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর তিন হামলাকারীর মধ্যে দুইজনকে পাকিস্তানি বলে শনাক্ত করে ভারত। তারপরই নয়া দিল্লি সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে।
পাকিস্তান ওই হামলার ঘটনায় তাদের কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করে। কিন্তু ভারত পাকিস্তানের কথা আমলে না নিয়ে কাশ্মীর অঞ্চলে দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ শুরু করে। এরপর ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক আদালতের দারস্থ হয়।
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে তিনটি যুদ্ধ ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি সংঘাত সত্ত্বেও উভয়পক্ষ চুক্তিটি মেনে চলে আসছিল। কিন্তু গত বছর প্রথমবারের মতো ভারত সিন্ধু পানি চুক্তির আওতাভুক্ত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
স্থায়ী সালিশি আদালত বলেছে, সিন্ধু পানি চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর আছে যেহেতু এটি বাতিল বা স্থগিত করার কোনো যৌক্তিক কারণ ভারতের ছিল না।
স্থায়ী সালিশি আদালত বলেছে, “ভারতকে অবশ্যই পশ্চিমের নদীগুলোর ওপর অবস্থিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর নকশা ও পরিচালনার বিষয়সহ চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলতে হবে।
আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী সালিশি আদালতের সদস্য হলেও ভারত বলেছে, তারা এই আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ এই রায় প্রত্যাখ্যান করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “তথাকথিত সালিশি আদালতের ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলার কোনো এখতিয়ার নেই। ভারত যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছে সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে এই রায়ের কোনো প্রভাব পড়বে না।”
সালিশি আদালত বলেছে, বিশ্ব ব্যাংকের নিয়োগ করা একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বিচার করবেন হিমালায় অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না।
পাকিস্তানের এক দাবির সঙ্গে সহমত হয়ে আদালত বলেছে, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তের পর ৯০ দিন না হওয়া পর্যন্ত ভারতকে রাতল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের দেয়াল ও পাওয়ার ইনটেক ষ্ট্রাকচার নির্দিষ্ট স্তরের বেশি উঁচুতে নির্মাণ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।