Published : 06 Aug 2026, 12:34 AM
১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে শিশু ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাকিস্তানের সাবেক এক রাজ্য মন্ত্রী রুখসার আহমেদ আবারও দেশের রাজনীতিতে ফিরেছেন।
যুক্তরাজ্যে পুলিশের জামিনে থাকা অবস্থাতেই তিনি গত সপ্তাহে পাকিস্তান শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
২০২১ সালে সংসদীয় আসন হারানোর পর দীর্ঘ ৫ বছর আইনসভার বাইরে কাটিয়েছেন রুখসার আহমেদ।
অবশেষে এবছর জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচনে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল ‘পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ’ (পিএমএল-এন) থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন।
রুখসার আহমেদ এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১১ এবং ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আজাদ কাশ্মীর বিধানসভার সদস্য ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় মন্ত্রির দায়িত্বও পালন করেছেন।
৬২ বছর বয়সী রুখসার আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রুমিং গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদেরকে ধর্ষণ ও পাচারকারী গ্রুমিং গ্যাংয়ের সঙ্গে রুখসার জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে পুলিশের জামিনে রয়েছেন।
গত মাসে তার ম্যানচেস্টারের একটি থানায় হাজির হয়ে জামিনের শর্ত পূরণ করার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। তার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি অসুস্থ থাকায় বিমানে ভ্রমণ করতে পারেননি।
তবে একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রুখসারকে পাকিস্তানের মিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে দেখা গেছে।
ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’জানিয়েছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ ২০২৪ সালে রুখসারের জামিনের শর্ত হিসেবে তার বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করতে চেয়েছিল। তবে আদালত সে সময় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের অনুমতি দেয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৭,০০০-এরও বেশি অনুসারী রয়েছে রুখসারের এবং এ বছরের মে মাসের মতো সাম্প্রতিক সময়েও তাকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলমে ছবিতে দেখা গেছে।
তিনি ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের সাবেক মালিকও, যা ম্যানচেস্টারের বিখ্যাত ‘কারি মাইল’ এলাকার কাছে অবস্থিত।
তদন্তকারীরা অন্তত দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে রুখসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই নারীরা দাবি করেছিলেন, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় রুখসার আহমেদ তাদেরকে ধর্ষণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগগুলো ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের, যখন রুখসার আহমেদ ২০ বছরের ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান এবং আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাকে আবারও পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হতে পারে।
তিনি হাজির না হলে যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এমনকি যুক্তরাজ্যে তাকে ফেরত নেওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
পিএমএল-এন-এর আজাদ কাশ্মীর শাখার এক ঊর্ধ্বতন নেতা বলেন, তিনি রুখসার আহমেদকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চেনেন। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না।
তিনি বলেন, “আমরা কেবল শুনেছি, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারে তিনি কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ আছে সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার জানা ছিল না।”
রুখসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।