চিড়িয়াখানার কুমিরের খাঁচায় কুমিরের চামড়ার ব্যাগ

বিশ্বে এখন মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ সিয়ামিজ কুমির টিকে আছে বলে ধারণা করা হয়।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 06:50 AM
Updated : 4 August 2022, 06:50 AM

লন্ডনের জেএসএল চিড়িয়াখানায় বানর, পেঙ্গুইন আর সিংহ সবই আছে, তবে সিয়ামিজ কুমির যে জায়গায় থাকার কথা, সেখানে মিলবে অন্য কিছু।

বিপন্ন এই প্রাণীটি এখন আর জেএসএল চিড়িয়াখানায় নেই। তার বদলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সেই খাঁচায় রেখেছে ওই প্রজাতির কুমিরের চামড়ার তৈরি একটি হাতব্যাগ।

বিবিসি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই হাতব্যাগের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর চিড়িয়াখানায় ওই খাঁচা ঘিরে প্রতিদিন জটলা হচ্ছে কৌতুহলী দর্শনার্থীদের।

২০১৮ সালে লন্ডনের একটি বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যাগটি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন। এরপর বিশ্বজুড়ে অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের প্রভাব তুলে ধরার জন্য সেটি হস্তান্তর করা হয় জেএসএল চিড়িয়াখানায়।

আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় এবং চোরা শিকারের কারণে গোটা বিশ্বে মাত্র ৫০০ থেকে এক ১০০০ সিয়ামিজ কুমির আছে বলে ধারণা করা হয়।

বিপন্ন ওই প্রাণিটি নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসার নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরতেই জব্দ করা ব্যাগটি চিড়িয়াখানার সিয়ামিজ কুমিরের শূন্য খাঁচায় রাখা হয়েছে গত কয়েকবছর ধরে।

সম্প্রতি ওই ব্যাগের ছবি একজন টুইটারে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর বিপন্ন প্রাণী নিয়ে অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছে নেট দুনিয়া।

জাদুঘরের সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী বিভাগের কিউরেটর বেন তাপলেই বলেন, এর মধ্য দিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, তাতে তিনি খুশি।

“সবচেয়ে ভালো হত যদি এখানে চমৎকার ওই প্রাণীগুলো থাকত। তবে হাতব্যাগটাও মানুষের নজর কেড়েছে। আমরা চেয়েছিলাম যাতে দর্শকদের এ বিষয়ে সচেতন করা যায়, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার একটা জায়গা তৈরি হয়। বন্যপ্রাণীর ওই অবৈধ ব্যবসার ওপর আলো ফেলতে পারে, এমন যে কোনো কিছুই এখন জরুরি।”

তাপলেই জানান, সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার খরস্রোতা নয় এমন নদীতে সিয়ামিজ কুমিরের দেখা মেলে। চোরা শিকারিদের অবৈধ ব্যবসার কারণে ২০ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে এ প্রাণীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। শুধু চামড়ার জন্যই ওই কুমির শিকার করে অনেকে।

বিবিসি লিখেছে, লন্ডন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণী রক্ষা ও বন্যপ্রাণী পাচারের নেটওয়ার্ক ধ্বংসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারের সঙ্গে কাজ করে।

লন্ডন চিড়িয়াখানায় অনেক বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, এর মধ্যে আবার অনেকগুলো নিয়ে অবৈধ ব্যবসায়ও রয়েছে। ২০০০ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ৩ হাজারের বেশি প্রাণী উদ্ধার করে চিড়িয়াখানায় পাঠিয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক